রাজধানীতে ছিনতাই এখন নিত্য দিনের আতংক। বখাটে ও নেশাখোরদের পাশাপাশি ছিনতাইয়ে নেমেছে বেপরোয়া হওয়া দলবদ্ধ হিজরারাও। এসব হিজরারা পতিতা সেজে শরীরে সুগন্ধি মেখে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অপেক্ষা করতে থাকে খদ্দরদের আশায়।
ইশারা ইঙ্গিতে চলে খদ্দর জোগারের কাজ, দর কষাকষির পর খদ্দর ম্যানেজ হলেই আশে পাশেই থাকে কন্ট্রাক করা রিক্সা চালক, চালকই আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বিভিন্ন অন্ধকার ও জনশূণ্য সড়কে নিয়ে যায় তাদের।
পিছন-পিছন ছুটে চলে চক্রে থাকা অন্য সদস্যরাও, নির্জন সড়কে পৌছা মাত্রই খদ্দরকে চর-থাপ্পর, কিল-ঘুষি মেরে ছিনিয়ে নেয় মোবাইল সেট, টাকা, ঘড়িসহ মূল্যবান কাগজপত্র।
অসহায় হয়ে দেখা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না খদ্দরদের, লোক লজ্জ্বার ভয়ে চুপ থাকেন তারা। কেউ থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেন না।
হিজরাদের সাজ-সজ্জা ও চাল-চলন দেখে বাহির থেকে বুঝার কোন উপায় নেই কে হিজরা আর কে পতিতা।
রাতের ঢাকা:- রাতের ঢাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এসব অপরাধ কর্মকান্ডের বাস্তব চিত্র। দলবেধে ঘুরতে থাকে পতিতা নামের হিজরারা।
রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপর্ণ মোড়সহ কাকরাইলের আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম চত্তর, শাহবাগ মোড় , ফার্মগেট ওভার ব্রীজ, সংসদ ভবন চত্তর, নয়াপল্টনের বিভিন্ন স্পট, মিরপুর, অভিজাত এলাকা গুলশান, ধানমন্ডির বিভিন্ন ফ্ল্যাট ও আবাসিক হোটেলগুলোতে চলে এসব অপরাধ কর্মকান্ড।
একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলে আরও র্দুভোগসহ নানা হয়রানীর শিকার হতে হয়, অনেকাংশে পুলিশের সামনেই চলে এসব অপরাধ কর্মকান্ড।
দিনের বেলায়ও থেমে থাকেনা হিজরাদের ছিনতাই, বিভিন্ন সড়কের ট্রাফিক জ্যামে আটক থাকা বাস, মাইক্রো, প্রাইভেটকারসহ অন্যান্য যানবাহনে ভোঁ-ভোঁ করে দৌড়ে ছোটে চাঁদা আদায়ে, কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হতে হয় অপমানসহ নানা অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজের শিকার।
হিজরাদের জন্য বাংলাদেশে কোন আইন নেই এই দোহাই দিয়ে চলে এসব অপরাধ কর্মকান্ড। হিজরা আতংক এখন পুরো ঢাকাতেই।
এছাড়াও হিজরারা বিভিন্ন বিয়ে বাড়ি, কমিউনিটি সেন্টার বা অন্য কোন আনন্দঘন মুর্হতে হাজির হয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে।
অনেক হিজরা মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদক বিক্রিতেও সক্রিয় রয়েছে। এসব অপরাধ কর্মকান্ড বন্ধে পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কতটা সক্রিয় তা এখন দেখার বিষয়।
এসএন





