রাজধানীর জিগাতলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘গুজব’ ছড়ানোর অভিযোগে আটক অভিনেত্রী ও মডেল কাজী নওশাবা আহমেদের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ (০৫ আগস্ট) ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল হক এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ নওশাবাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করে ৭ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। শুনানি শেষে বিচারক ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার আনিসুর রহমান এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল রাতে নওশাবার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে মামলা করেছে র্যাব। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান আজ (রোববার) দুপুরে এই তথ্য জানান।
জিগাতলায় গতকাল (০৪ আগস্ট) নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় দুই ছাত্রের মৃত্যু এবং একজনের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে দাবি করে ফেসবুকে লাইভ করেন কাজী নওশাবা আহমেদ। পরে তাঁর দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফেসবুকে ‘গুজব’ ছড়ানোর অভিযোগে গতকাল (শনিবার) রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে র্যাব-১-এর কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
রাত ১২টার দিকে র্যাব-১-এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার জন্যই ফেসবুক লাইভে আসেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এটা স্বীকার করেছেন। র্যাব পরিচালক জানান, নওশাবা ঘটনাস্থলে না থেকেই লাইভে এসে গুজব রটান। উসকানি ছড়ানোই ছিল উদ্দেশ্য।
গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়। এছাড়া আহত হয় বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হলো- শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। গতকাল (০৪ আগস্ট) রাজধানীর জিগাতলায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশ। হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা সেখানে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের কাজ করছিল।
আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিসোটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রথম দফা হামলা করেছে এক দল যুবক। শিক্ষার্থীদের দাবি তারা স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এ সময় তাদের সঙ্গে যোগ দেন পুলিশ সদস্যরা।
হামলার প্রতিবাদে আজ (রোববার) রাস্তায় বিক্ষোভে নেমেছে আরও বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী।
এমবি





