বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের সরকারি ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলা তিন মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে করা রিভিউ আবেদন নিষ্পিত্তি করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে মির্জা আব্বাসের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, আজমালুল হোসেন কিউসি ও আহসানুল করিম। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশিদ আলম খান।
এর আগে ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) নিষ্পত্তি করে দেন আপিল বিভাগ। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করেন আসামিরা।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, সাতটি মামলা বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগ। অন্যটিতে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন। বলেছেন, আইন অনুসারে বিচার চলবে। ফলে মামলাগুলোর কার্যক্রম চলতে বাধা নেই।
আইনজীবী সূত্র জানায়, এই ১৮টি বাড়ি বরাদ্দ নিয়ে ১৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাতটি মামলা বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দুদক সাতটি আবেদন করে। ওই পাঁচজন হলেন- বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ইমদাদুল ইসলাম, একম ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী হাসান, চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আফছার উদ্দিন আহম্মেদের স্ত্রী হাসনা আহমেদ ও এস এম আনোয়ার হোসেন।
এ ছাড়া মামলার বৈধতা নিয়ে করা হাইকোর্টে আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন বায়রার আলী হায়দার চৌধুরী। এসব আবেদনের ওপর শুনানি হয়। আলী হায়দারের লিভ টু আপিল খারিজ হয়।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় সরকারি ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি সাজানো দরপত্র ডেকে অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রির অভিযোগে ২০০৭ সালের মার্চে সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করে দুদক।
মামলায় ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাজানো দরপত্রের মাধ্যমে এবং প্রকৃত দামের চেয়ে কম দাম দেখিয়ে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রি করে আসামিরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা। অভিযোগপত্রে আরও ১৪ আসামির নাম যুক্ত হয়। তাদের বিরুদ্ধে সুবিধা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। মির্জা আব্বাসের মামলায় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়।
এমই





