বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার বিচারক ছাত্র জীবনে ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।

রাজধানীর বকশীবাজারে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালতে মামলার শুনানীকালে বিচারকের অতীত কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে এ তথ্য উঠে আসে।

বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন শুনানী শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, শুনানীকালে বিচারক তার বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন।

এ সময় তারা বিচারককে বলেন, আমরা জানি আপনার একটি বর্ণাঢ্য অতীত রয়েছে। আপনি একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।

তবে, বিচারক কোন ছাত্র সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে খন্দকার মাহবুব সাংবাদিকদের কিছু বলেননি।

তিনি বলেন, আমরা বিচারককে বলেছি, আপনি নতুন বিচারক হিসেবে এসেছেন, আমরা আপনাকে নতুনভাবে দেখছি, আপনিও আমাদেরকে নতুনভাবে দেখছেন। আমরা আপনার কাছে ন্যায় বিচার আশা করছি।

বিচারককে উদ্দেশ্য করে খন্দকার মাহবুব আরও বলেন, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামের সাথে এই মামলার কার্যক্রম লিপিবদ্ধ থাকবে, সেই হিসেবে খালেদা জিয়ার নামের সাথে আপনার নামও জড়িত থাকবে, আমাদের নামও থাকবে।

খালেদা জিয়ার এই প্রবীন আইনজীবী বলেন, বিচারককে উদ্দেশ্য করে তারা ন্যায় বিচারের আবেদন করেছেন এবং কোন ধরনের রাষ্ট্রীয় শক্তির দ্বারা প্রভাবিত না হতেও বিচারকের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।

এই মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে যা বিচারাধীন রয়েছে-আদালতকে এমন তথ্য দিয়ে খন্দকার মাহবুব বলেন, ছুটি থাকায় উচ্চ আদালতের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমরা সময়ের আবেদন করছি।

আদালত এই আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ৭ই জানুয়ারি মামলার শুনানীর পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন বলেও জানান খালেদার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের সুপারিশে আইন মন্ত্রণালয় আগের বিচারক বাসুদেব রায়ের বদলে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ হিসাবে নিয়োগ দেয় আবু আহমেদ জমাদারকে। তিনি নতুন দায়িত্ব লাভের আগ পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে, গত ১৭ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি চেয়ে দুই দফায় খালেদা জিয়ার করা সময়ের আবেদন খারিজ করে দেন আগের বিচারক বাসুদেব রায়। পরে খালেদার আইনজীবীদের তুমুল হট্টগোলের মধ্যেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদের আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এরপর বাকি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য বুধবার দিন ধার্য করে খালেদাকে অবশ্যই আদালতে হাজির করাতে আইনজীবীদের নির্দেশ দেন।

কেবি/এএইচ