রাজধানীর লালবাগের আলোচিত সাত খুনের মামলায় নিম্নআদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও ডেথরেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন ) ওপর শুনানি শেষে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত  বেঞ্চ এ রায় প্রদান করেন।

এর আগে আজ রায় ঘোষণা শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন ওই আদালতে নিয়োজিত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ। তিনি বলেন, গত রোববার থেকে রায় প্রদান শুরু হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের পরের দিন ৩১ জানুয়ারি লালবাগ এলাকায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজিত কমিশনার পদপ্রার্থী বিএনপির নেতা আবদুল আজিজ তাঁর কর্মিবাহিনী নিয়ে বিজয়ী কমিশনারের কর্মী-সমর্থকদের সমাবেশে এলোপাতাড়ি গুলি চালান।

এ সময় বিজয়ী কমিশনার হুমায়ুন কবিরের সমর্থকেরা বিজয় মিছিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। প্রতিপক্ষের হামলায় লালবাগ এলাকার দেলোয়ার, গাজী, নজরুল, আনোয়ার, হাফিজ, আজিজ ও শাহ আলম নিহত হন।

ঘটনার পর তখনকার বিজয়ী কমিশনার হুমায়ুন কবির ১৯ আসামির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৭০ থেকে ৮০ জনের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তখন থেকে মামলাটি সেভেন মার্ডার হিসেবে পরিচিতি পায়।

১৯৯৪ সালের ১৪ মে ২১ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। ওই বছরের ১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালে আসামি আবদুল মজিদ মৃত্যুবরণ করেন। আবদুল মজিদ মামলার আসামি আজিজের বাবা।

জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ জেলা জজ আদালত ২০০৮ সালের ৭ মে রায় দেন। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, নয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আট আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন—আবদুস ছালাম ওরফে মতি ও জাহিদ হোসেন ওরফে নাটকা বাবু। তাঁরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নয়জন হলেন আবদুল আলিম ওরফে শাহীন, মনির পাটোয়ারী, মুন্না, কালু ওরফে কাইল্যা, দেলোয়ার হোসেন ওরফে আন্ডা, আমির হোসেন ওরফে আমিরা, মাহাতাব হোসেন, দিল মোহাম্মদ ওরফে মতি ও মোজাম্মেল। তাঁদের মধ্যে শেষ দুজন পলাতক। আর আবদুল আজিজকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

নিম্ন আদালতের রায়ের পর পলাতক দুই আসামি ছাড়া অপর আসামিরা আপিল করেন। ডেথরেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে। চলতি মাসের শুরুতে ডেথরেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, খুরশীদ আলম খান ও এ এস এম শাজাহান মামলা পরিচালনা করেন।

ঢাকা,কেএ ২৪ জুলাই টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ