সৌদি আরবে আটক শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা কামরুল ইসলামকে ঈদের আগে দেশে ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না। দু’তিন দিনের মধ্যেই সৌদিতে ঈদ উল ফিতরের ছুটি শুরু হয়ে যাবে বলে তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে অপেক্ষা করতে হবে বলে জানানো হচ্ছে।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আগামী দু’তিন দিনের মধ্যে সৌদির অফিস-আদালত ছুটি হয়ে যাবে। কামরুলকে ফেরাতে যে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হচ্ছে, সে প্রক্রিয়া অবলম্বন করে তাকে দেশে ফেরানোর জন্য ঈদের আগে পর্যাপ্ত সময় নেই। তাই কামরুলকে দেশে ফেরাতে ঈদের পর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সূত্রটি বলছে, মঙ্গলবার কামরুলকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। সেটা দুই সপ্তাহ থেকে এক মাস সময়ও লেগে যেতে পারে।

এ বিষয়ে সোমবার রাতে জেদ্দা কনস্যুলেটের ভারপ্রাপ্ত কনসাল জেনারেল মোকাম্মেল হোসেন বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে।

কনস্যুলেটের কনসাল (ভিসা) আজিজুর রহমান বলেন, আমরা প্রথমে কামরুলকে সৌদি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবো। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে তাকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় জেদ্দার জামেয়া এলাকা থেকে দেশ ছেড়ে পালানো ঘাতক কামরুলকে আটক করা হয়। তাকে এখন জেদ্দা কনস্যুলেটে আটকে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার কামরুলকে স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

রাজন হত্যার প্রধান আসামি কামরুল ১৫ বছর ধরে সৌদি নাগরিক মোছাইদ আল সোরাইসির বাসার গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গত বুধবার ১৩ বছরের রাজনকে পিটিয়ে হত্যা এবং নির্যাতনের ভিডিও ইন্টারনেটে দেওয়ার পর ভাই মুহিত আলম ধরা পড়লেও সৌদি প্রবাসী কামরুল (২৪) দেশ ছেড়েছিলেন।

কামরুলকে বাংলাদেশে ফেরাতে কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে, যা স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করতে হবে বলে জানান তিনি।  

রাজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সোমবারই বলেন, এই ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 

গত বুধবার রাজনকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ গুম করার সময় মুহিতকে পুলিশে দেয় জনতা। সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

সোমবার সন্ধ্যায় শেখপাড়া এলাকায় মুহিতের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী লিপি বেগমকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

এদিন সকালে সন্দেহভাজন হিসেবে ইসমাইল হোসেন আবলুছ (২২) নামে একজনকে আটক করে পুলিশ।

গত বুধবার সকালে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ১৩ বছরের  রাজনকে। নির্যাতনের ভিডিও নির্যাতনকারীরা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিলে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। 

এরপর জালালাবাদ থানা পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করে। ওই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন মামলাটির তদন্ত করছেন।

আসামিদের মধ্যে শেখপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে মুহিত (৩৫) ও কামরুল (২৪) ছাড়াও রয়েছেন তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না (৪৫)।

আলী হায়দার ও ময়না এখনও পলাতক হলেও তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রহমত উল্লাহ জানিয়েছেন।

রাজনকে নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ দল গঠন করেছে পুলিশ, রহমত উল্লাহ নিজেই ওই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

“গত রাত থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে,” বলেছেন তিনি।

এএইচ