দেশবন্ধু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. গোলাম রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত ১৮ নভেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক জুলফিকার আলী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে দেশ বন্ধু গ্রুপের এমডি গোলাম রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বাড়ি এবং স্থাপনার তথ্য চেয়ে নোটিশ পাঠন। কারণ রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি এবং উত্তরায় তার একাধিক বাড়ির প্রাথমিক তথ্য রয়েছে দুদকে।
জানা যায়, শিগগিরই দুদক তার সম্পদের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য চেয়ে রাজউক, জেলা রেজিস্ট্রার দপ্তর, সাব- রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস, ডাক বিভাগ, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, স্টক এক্সচেঞ্জ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিনীয়োগ বোর্ড, ব্যাংক, বিমা, লিজিং কোম্পানিসহ প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠানে দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা নোটিশ পাঠাচ্ছে।
এদিকে নাম না প্রকাশের শর্তে দুদকের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, দেশ বন্ধুর এমডি গোলাম রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে- তিনি কিভাবে কল্পনাতীত বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে একজন দক্ষ কর্মকর্তাকে ওই অভিযোগ খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে দেশ বন্ধু গ্রপের এমডি গোলাম রহমান, তার পরিবারের সদস্য এবং ওই গ্রপের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে তলবি নোটিশ পাঠানো হতে পারে।
জানা যায়, দেশ বন্ধু গ্রুপের এমডি গোলাম রহমান এবং চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক উত্থানের রহস্য উদঘাটনের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, অনিয়ম ও লোপাটের অভিযোগ রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা দুদকের অনুসন্ধানী সেলে জমা হয়েছে । আর এসব তথ্যের ভিত্তিতে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
গোলাম রহমানের বড় অংশীদারিত্বে রয়েছে দেশবন্ধু শিপিং লিমিটেড, দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড, রাফা প্লাজা (শপিং মল), দেশবন্ধু সিমেন্ট লিমেটেড, জি এম প্রপার্টিজ, দেশবন্ধু পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, সাউথ ইস্ট সুয়েটারজ লিমিটেড, সাহেরা অটো রাইস মিলস লিমিটেড, দেশবন্ধু সিকিউরিটিজ সার্ভিস লিমিটেড, দেশ বন্ধু পলিমার লিমিটেড, ট্রেডিং কোম্পানিজ (ফার্টিলাইজার মার্কেটিং করপোরেট, মরু ট্রেড, এম আর ট্রেডিং), দেশ বন্ধু মিডিয়া লিমিটেড।
আর উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হলেন গোলাম রহমান। ফলে দেশ বন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং এমডির বিরুদ্ধে কয়েক হাজার কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অর্থাৎ অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধান হচ্ছে। তবে আরো অভিযোগ উঠেছে, দেশ বন্ধু গ্রুপের এমডি গোলাম রহমান প্রধানমন্ত্রীর সংস্থাপন উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের নাম ভাঙ্গিয়ে অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে সব কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
একে, জেএ





