ঈদের মধ্যে মা-বাবার সঙ্গে গ্রামে গিয়া ঈদ করতে আবদার করছিলাম। এই জন্য কাম কাজে মনযোগ নাই কইয়া খুন্তি গরম কইর‌্যা শইলের বিভিন্ন জায়গায় ছ্যাকা দিয়া ক্ষত করে। আর চিল্লাচিল্লি করি দেইখ্যা এই ক্ষত স্থানে গরম পানি দেয়। এইভাবে গত সাতদিন ধইর‌্যা এমনাবস্থা কইরা আইলে শাইলে পঁচন ধরছে।

গত পরশু দিন (শুক্রবার) অজ্ঞান হইয়া পড়লে জ্ঞান ফিরাইয়া আইন্যা পরদিন একটা বাসে উডাইয়া দিয়া বাড়ি পাডাইয়া দেয়-এইভাবেই গৃহকর্তী কর্তৃক বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা দেন মোছাম্মৎ বেগম (২০) নামে এক স্বামী পরিত্যক্তা নারী। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের রাওলের চর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মো.সামছুদ্দিন।

বেগম রাজধানীর মুগদা থানার মানিকনগর মহল্লার আবুল কালাম নামে এক ব্যক্তির বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতো। গৃহস্থালী কাজ না পারার অভিযোগ তুলে বাসার মালিকের স্ত্রী শিল্পী বেগম তাঁর ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে বলে বেগম গতকাল রোববার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় এসে পুলিশকে জানিয়েছে।

তবে বাসার কোনো নাম্বার বা গৃহকর্তা কি করেন তা বলতে পারছেন না। শুধু বলছেন, ওই এলাকার একটি বহুতল ভবনের ছয় তলায় থাকতেন। থানায় এ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময় সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে সন্ধ্যার পর তাঁকে (বেগম) ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হবে।

থানা-পুলিশ সূত্র ও বেগমের ভগ্নিপতি মো. আবুল হাসেম বলেন, গত আট মাস আগে স্বামী বেগমকে পরিত্যাগ করে। পরে তিনি রুটি-রুজির সন্ধানে ঢাকায় চলে যান। গত দু’মাস আগে ঢাকার ওই বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজে যোগ দেন। সেখানেই বেগম দফায় দফায় বর্বর নির্যাতনের শিকার হন।

বেগমের ভগ্নিপতি হাসেম আরো জানান, গত শনিবার রাত ৩টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক চালক ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের বটতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে বেগমকে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে বেগমকে জিজ্ঞেস করে জানা যায়, শনিবার বিকেলে ঢাকা থেকে নেত্রকোনাগামী শাহাজালাল পরিবহন নামে একটি বাসে তাঁকে কে বা কারা তুলে দেয়। সেই বাসের চালককে তাঁর (ভগ্নিপতি) নাম্বরটি দেওয়া হয়। ময়মনসিংহ বাসস্ট্যান্ডে আসার পর সেই চালক ভগ্নিপতিকে ফোন দিয়ে শ্যালিকা বেগম গুরুতর অসুস্থ জানিয়ে বাড়ির ঠিকানা জানতে চান।

ভগ্নিপতি মো. আবুল হাসেম বলেন, তিনি বেগমের বাড়ির ঠিকানা জানিয়ে বাসের চালককে অনুরোধ করেন, তাঁকে যেন কিশোরগামী একটি বাসে তুলে দিয়ে বটতলা বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দেয়। গভীর রাতে বেগমকে সেখানে নামিয়ে দিলে সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক চালক তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে যায়। নির্যাতনের শিকার বেগম ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না। তাঁর সারা শরীরে নির্যাতনের অসংখ্য চিহ্ন। সেগুলোতে পচন ধরেছে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহমেদ কবীর বলেন, এ বর্বর নির্যাতন দেখে মনে হচ্ছে তাঁকে মেরে ফেলতেই পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে। শরীরের সবগুলি স্থানে পঁচন ধরেছে। চিকিৎসা না করানোতে অবস্থা এখন ভয়ানক আকার ধারণ করেছে। নির্যাতনের চোটে মেয়েটি অনেকটা অপ্রকৃতস্থ হয়ে পড়েছে। কিছু কথা বলেই সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এই অবস্থায় থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ মাঠে নেমেছে।

কামরুজ্জামান শাহীন/এসএম