জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইনমন্ত্রীর বক্তব্য জেল কোডের অপব্যাখ্যা। আইনমন্ত্রীর মনগড়া এ বক্তব্য দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করবে।
তিনি বলেন, জেল কোডের ৯৯১ ধারায় রায় ঘোষণার দিন থেকে ৭ দিনের মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার বিধান উল্লেখ নেই।
রোববার দুপুরে সুপ্রীমকোর্ট বার মিলনায়তনের সংবাদ সম্মেলন তিনি এ কথা বলেন।
শিশির মনির বলেন, মৃত্যু পরোয়ানা গ্রহণ করার পর থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ নতুন জেল কোড অনুযায়ী ১৫ দিন ও পুরনো জেল কোর্ড অনুযায়ী ৭ দিনের বিধান রয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান প্রমুখ।
কামারুজ্জামানের অপর আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন বলেছেন, আমরা মনে করি রিভিউ আবেদনে কামারুজ্জামান ন্যায়বিচার পাবেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনালে প্রাণদণ্ডাদেশ পাওয়া জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় গত ৩ নভেম্বর বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। চূড়ান্ত শুনানি শেষ হওয়ার দেড়মাস পর এই রায় দেওয়া হয়।
আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে।
বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত বছর ৯ই মে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
১৯৭১ সালে আল-বদর বাহিনীর ময়মনসিংহ জেলা প্রধান ছিলেন কামারুজ্জামান। হত্যা, লুণ্ঠন, নির্যাতনসহ তার বিরুদ্ধে আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। জামায়াত এ রায়ের প্রতিবাদে গত ৫ নভেম্বর হরতাল পালন করেছে।
কেএ/এএইচ





