জেএমবির প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুন নূরসহ ৫ জন এহসার ও গায়েরে এহসার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন।
এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আটকরা হলেন বাংলাদেশে জেএমবির প্রধান সমন্বয়ক আবদুন নূর (৩১), এহসার সদস্য নূরুল ইসলাম, নূরুজ্জামান আরিফ, গায়েরে এহসার সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও ফারুক আহমেদ।
র্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান র্যাব সদর দপ্তরে শুক্রবার বিকাল ৫টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি যে, জেএমবির প্রধান সমন্বয়কারী মোঃ আব্দুন নুর (৩১) বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিম (চাপাইনবাবগঞ্জ) অঞ্চল থেকে ট্রেনযোগে জয়দেবপুরের দিকে আসছে।
এ খবরের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে সিরাজগঞ্জের শহীদ মুনসুর আলী রেল স্টেশন এলাকা থেকে র্যাব-১২ এর সদস্যরা অভিযান পরিচালিয়ে জেএমবির প্রধান সমন্বয়কারী (১) মোঃ আব্দুন নুরসহ এহসার ও গায়েরে এহসার সদস্য সর্বমোট ৫ জনকে আটক করা হয়।
আটককৃতদের তল্লাশি চালিয়ে ৪৯টি প্রাইমারি ডেটোনেটর, ২৬টি ইলেক্ট্রনিক ডেটোনেটর, ৪টি টাইম বোমা, ৩৫ গজ কর্ডেক্স, ১০ কেজি পাওয়ার জেল, ১৫৫টি বিভিন্ন প্রকার সার্কিট, ৫৫টি জিহাদি বই, ৪৫টি বোতাম টাইপ সার্কিট, ৩টি ইগনাইটর, ১টি পাওয়ার রেগুলেটর উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত রেগুলেটর গুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম ছিল।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্যদের প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদে জানা যায় যে, আব্দুন নুর মূলত বাংলাদেশে অবস্থান করে আত্মগোপনে থাকা জেএমবির আমীর সোহেল মাহফুজ এর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করত। জেএমবিকে পুনরায় সংগঠিত করার জন্য নতুন সদস্যপদ সংগ্রহের চেষ্টা করতে থাকে। এই লক্ষে জেলখানায় অবস্থানরত জেএমবি শীর্ষ নেতাদের ও দেশের বাইরে আত্মগোপনে থাকা জেএমবির সক্রিয় সদস্যদের সাথেও যোগাযোগ রক্ষা করত।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞসাবাদে তারা জানায় যে, গ্রেফতার আতংকে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে জয়দেবপুরের দিকে যাচ্ছিল এবং বাংলাদেশে যে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে তারা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নাশকতা সৃষ্টি করে আবার তারা সাংগঠনিকভাবে যে সক্রিয় হয়েছে তা পূর্বাভাষ দিতে চেয়েছিল দাবি করেন র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।
তিনি বলেন, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াধীন আছে।
জেইউ/কেএইচ





