রাজধানীসহ সারাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকলেও রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকায় চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। এ এলাকা এখন মাদক সেবন ও বিক্রির নিরাপদ স্থান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকায় সন্ত্রাসী ও ইয়াবার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে ইয়াবার সম্রাট জিয়া উদ্দিন জাবেদ, জুথি ও জয়তুননেছা। পুরো এলাকায় তারা ইয়াবা কেনাবেচার হাট বানিয়ে বসেছে।
একই এলাকার মমতাজের ছেলে নয়ন আশকোনাসহ দক্ষিণখান থানা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এদের কাছে এলাকাবাসী জিম্মি হয়ে পড়ছে। জিয়া উদ্দিন জাবেদের, বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন দফতরে দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায় ১৯৮৪ সালে আসকোনার আমানউল্লার বাড়িতে লজিং মাস্টার থেকে আমানউল্লাকে ধর্মের বাবা এবং তার স্ত্রীকে ধর্মের মা ডাকেন। তারপর ধর্ম মা এর সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। শেষ পর্যন্ত ধর্ম মা জয়তুন নেছাকে সে বিয়ে করে এবং আমান উল্লার বাড়িটি জালজালিয়াতের মাধ্যমে দখল করে নেয়।
এরপর আমান উল্লার মেয়ে মরিয়মের স্বামী মহিউদ্দিন বাদলকে সন্ত্রাসীদের দ্বারা হত্যা করে তার সম্পদও দখল করে নেয় সন্ত্রাসী জিয়া উদ্দিন জাবেদ। এ সময় বাদল হত্যার মুল পরিকল্পনাকারী হিসেবে জাবেদের নাম বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রচার হয়। তখন নিহতের পিতা ৩০-১১-২০১৩ সালে বিমান বন্দর থানায় জাবেদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করে। যার নং-৩৮। এ মামলায় টাকার জোরে আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যায় জাবেদ।
জেল থেকে বেরিয়ে সেই জাবেদের নেতৃত্বেই আবারও চলছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আর মাদক ব্যবসা। এদের বিরুদ্ধে একাধিক জিডি ও মামলা রয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন থানায়। পুলিশ তাদেরকে বেশ কয়েকবার আটক করলেও রহস্যজনক কারণে সে ছাড়া পেয়ে যায়। জানা যায়,পূর্ব আশকোনা ও আশকোনার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে সন্ধ্যার পর বসে জুয়া ও মাদকের আসর।
কিন্তু দুংখজনক কথা হল এই ব্যপারে মাদকদ্রব্য অধিদফতরের কর্মকর্তা ও দক্ষিণখান থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালালে পরক্ষণেই থানার সাথে মিলমিশ করে ফেলে তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা (পুলিশ) এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
এলাকাবাসী এর বেশ কিছু দিন আগে এই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে র্যাবের ডিজি, পুলিশের আইজি, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছে অভিযোগ করেছিলেন। এতে কিছুদিন এদের বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও এখন আবারো থানা পুলিশকে মেনেজ করে মাদক ব্যাবসায় নিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আশকোনা প্রাইমারি স্কুলের পাশে এবং কয়েকটি আবাসিক হোটেলে মাদক ও নারীসহ মনোরঞ্জনের নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় মাদকসেবীদের সাথে বহিরাগতরাও মাদক সেবনের নিরাপদ স্থান বলে মনে করে এই স্থানকে । কেউ প্রতিবাদ করলেই তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে থানা পুলিশের ভয় দেখানো হয়।
এলাকাবাসী জানান, থানার কিছু অসাধু এস আই, এ এস আই ও পুলিশ সদস্যদের সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের যোগসাজস থাকায় এ সব অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকান্ড বন্ধ হচ্ছে না। জাবেদের বিরুদ্ধে মো. লিয়াকত হোসেন ২১-৩-৯৫ তারিখে উত্তরা থানায় চাঁদা দাবি ও চুরির অপরাধে মামলা দায়ের করেন যার নাম্বার ২৪। এছাড়া দক্ষিণখান থানায় জাবেদের বিরুদ্ধে ৮/৯টি জিডিসহ পিটিশন মামলা, সন্ত্রাসী মামলা এবং হত্যা মামলাও রয়েছে।
তারপরেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এব্যাপারে জানতে চাইলে দক্ষিণখান থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা বলেন, এই থানায় আমি যোগদান করার পরপরই মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরও জানান, এই মাসে আমাদের বিশেষ অভিযান চলছে। মাদক ব্যবসায়িরা ও সন্ত্রাসীরা অনেকে পালিয়েছে। আর যারা এলাকায় আছে তাদের ব্যাপারে পুলিশ তৎপর। যে কোনো মুহুর্তে তারা গ্রেফতার হবে।
উল্লেখ্য, মাদকের ভয়াবহ নেশার ছোবলে দেশের যুব সমাজ ধ্বংসের পথে পা বাড়িয়েছে। অনেক সময় সরকার এই ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে থাকলেও অর্থ লোভী কিছু লোকেরা বিভিন্ন ধরনের নেশার দ্রব্য ও মাদক যুব সমাজের হাতে তুলে দিয়ে যুব সমাজ ধংস করছে ও রাতারাতি ব্যাপক টাকার মালিক হচ্ছে। এর ফলে দেশের যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে সরকারের ব্যর্থতার পাল্লাই যেন ভারী হচ্ছে দিনকে দিন।
নেশাগ্রস্থরা অর্থ যোগাতে জড়িয়ে পড়ছে নানা রকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে। সরকার যখন এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয় তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে এবং কিছু দিনের জন্য এরাসহ সরকারি লোক ভাল থাকে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যায়।
কেবি





