দুর্নীতি মামলায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব মিয়া নূর উদ্দিন ওরফে অপুর জামিন আবেদন খারিজ করেছে হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের আদালত এই আদেশ দেয়।

আদালতে দুদকের পক্ষে মো. খুরশীদ আলম খান এবং অপুর পক্ষে জয়নুল আবেদীন শুনানি করেন।

গত ১৪ জুলাই ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায় অপুর জামিন আবেদন নাকচ করেন। এরপর ২০ জুলাই তিনি হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করেন।

ওই আবেদনের পর হাই কোর্ট একটি রুল দিয়েছিল, যার শুনানি করে আবেদন খারিজের এই রায় দিল আদালত।

বসুন্ধরার কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর সাব্বির হত্যা মামলার আসামিদের বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে ২১ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ৪ অক্টোবর দুদক এই মামলা দায়ের করে।

২০০৮ সালের ১৪ জুলাই আদালত অভিযোগ গঠন করে। অপুর এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান শাহ আলম, তার দুই ছেলে সাফিয়াত সোবহান ও সাদাত সোবহান, খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, আবু সফিয়ান ও কাজী সলিমুল হক কামাল।

অভিযোগ গঠনের আদেশে বলা হয়, ২০০৬ সালের ৪ জুলাই সাব্বির খুন হওয়ার পর আসামি সাফিয়াত সোবহান লন্ডনে পালিয়ে যান এবং তার বাবা আকবর সোবহান ছেলেকে বাঁচাতে নানামুখি তদবির শুরু করেন। এ কারণে মামলার তদন্তে স্থবিরতা দেখা দেয়।

এরপর তখনকার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর আসামিকে বাঁচানোর জন্য ৫০ কোটি টাকা ঘুষের রফা করে নিজে ৫ কোটি এবং সলিমুল হক কামালের সহায়তায় আরো ১৫ কোটি টাকাসহ ২০ কোটি টাকা ঘুষ নেন। আরেক আসামি তারেক রহমান ১ কোটি টাকা ঘুষ নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অপু বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিতর্কিত ‘হাওয়া ভবনের’ অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন বলে গণমাধ্যমের খবর। ২০০৭ সালে ক্ষমতার পালাবদলের সময় তিনি মালয়েশিয়া চলে যান।

কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা যায়, গত ১২ জুন তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় অপুই তাকে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। ১৩ জুন তারেক রহমান মালয়েশিয়া থেকে ফিরে যান লন্ডনে এবং ১৭ জুন ঢাকায় আসেন অপু।

পরদিন ১৮ জুন একটি চাঁদাবাজির মামলার আত্মসমর্পণ করলে ঢাকার মহানগর ২ নম্বর দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আতাউল হক জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে জেলহাজতে পাঠান। পরে ২৩ জুন তাকে ঘুষগ্রহণের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

জেআই