আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন বিষয়ে ব্যক্তিগত ব্লগে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না- সে বিষয়ে ব্যাখ্যা জমা দিয়েছেন বার্গম্যান। এ বিষয়ে ব্যাখ্যার শুনানি আগামী ৮ জুলাই নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

রোববার ‍আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে ব্যাখ্যার শুনানির দিন আগামী ৮ জুলাই নির্ধারণ করে আদেশ দেন।

ডেভিড বার্গম্যানের পক্ষে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। এ ব্যাখ্যার বিষয়ে শুনানির প্রস্তুতি নিতে সময়ের আবেদন জানান আইনজীবী ব্যারিস্টার মিজান সাঈদ।

এর আগে এ বিষয়ে এক শুনানিকালে বার্গম্যানের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খানকে বিচারপতি জিজ্ঞাসা করেন মুক্তিযুদ্ধে কত লোক শহীদ হয়েছে সেটা একটা নির্দিষ্ট বিষয়। শুধু শুধু এ বিষয়ে বিতর্ক তৈরির দরকার কি? আইনজীবী বলেন, ‘বার্গম্যান বলেননি যে বাংলাদেশে শহীদের সংখ্যা ত্রিশ লাখের কম। বরং তিনি বলেছেন, বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সোর্স উল্লেখ করেছেন।’

আইনজীবী আরো বলেন, ‘বার্গম্যান সংস্কারমূলক সমালোচনা করেছেন। সুতরাং এটা আদালত অবমাননা হতে পারে না।’

তখন আবেদনকারীর আইনজীবী মিজান সাঈদকে আদালত এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ট্রাইব্যুনাল আইনের ১১(৪) ধারায় এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। তখন আদালত বলেন, ‘এ ধারা অনুযায়ী শহীদের বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা আদালত অবমাননা হতে পারে কি?’

জবাবে মিজান সাঈদ বলেন, ‘আমরা আপনাদেরকে (ট্রাইব্যুনাল) সাহায্য করতে এসেছি। এখন আপনারা যদি মনে করেন এটা আদালত অবমাননা তাহলে আদেশ দিবেন। আর মনে না করলে যা ভালো হয় সেটা করবেন।’

এর আগে, গত ১৮ মার্চ আদালতে ডেভিড বার্গম্যানের পক্ষে রুলের জবাব দাখিল করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।

গত ২০ ফেব্রয়ারি সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে ৬ মার্চ আদালতে হাজির হয়ে ২০১১ সালের ১১ নভেম্বর ও ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ব্লগে লেখার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

ব্লগে লেখার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেন হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ । তার পক্ষে ট্রাইব্যুনালে শুনানি করে আইনজীবী মিজান সাঈদ ।

আবেদনকারী আইনজীবী আবেদনে বলেন, সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান তার নিজস্ব ওয়েবসাইটে (bangladeshwarcrimes.blogspot.com)আজাদ জাজমেন্ট অ্যানালাইসিস-১;ইন অ্যাবসেন্সিয়া ট্রায়াল অ্যান্ড ডিফেন্স ইনডিকোয়েন্সি এবং আজাদ জাজমেন্ট অ্যানালাইসিস-২;ট্রাইব্যুনাল অ্যাজাম্পশন শীর্ষক লেখা প্রকাশ করেন।

এসব লেখায় ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আবুল কালাম আযাদের রায় নিয়ে করা মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালের মর্যাদাহানী হয়েছে বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে এই আইনজীবী তার আবেদনে উল্লেখ করেন ডেভিড বার্গম্যানের ব্লগে দেলাওয়ার হুসাইন সাঈদীর রায় নিয়ে করা মন্তব্যেও আদালত অবমাননা হয়েছে।

বৃটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান বর্তমানে ইংরেজি দৈনিক ‘দ্যা নিউএজ’র বিশেষ প্রতিনিধি। এছাড়া তিনি সংবিধান প্রনেতা ড. কামাল হোসেনের মেয়ের জামাতা।

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার আগে থেকেই এই বৃটিশ সাংবাদিক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে কাজ শুরু করেন। একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে গবেষণা, বিভিন্ন লেখালেখি ও কয়েকটি ভিডিও ডকুমেন্টারি তৈরি করেছেন ডেভিড বার্গম্যান।

২০১১ সালের ২ অক্টোবর দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে ইংরেজি দৈনিক ‘দি নিউএজ’র সম্পাদকীয় পাতায় বার্গম্যানের নামে ‘এ ক্রুশিয়াল পিরিয়ড ফর আইসিটি’ শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশিত হয়। ডেভিড বার্গম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার বিষয়ে এ আবেদনের আগেও একবার সতর্ক করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল-১।

ঢাকা,কেএ ১৫ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ // কেবি