বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাক্ষী কমোডর গোলাম রব্বানী হত্যা মামলায় বিচারিক আদতালতে ৫ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে হাই কোর্ট।
বুধবার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিদের আপিল শুনানি করে  বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. আকরাম  হোসেন চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।
যাবজ্জীবন কারাদন্ডের শাস্তি হওয়া তিন জন হলেন আবু নাসের চৌধুরী,হুমায়ূন কবির চৌধুরী ও মো. সেলিম।
রায়ে মামলার আসামি চট্টগ্রামের কোরিয়ান এক্সপোর্ট  প্রোসেসিং জোনের  (কেইপিজেড) সাবেক মহাব্যবস্থাপক আবু নাসের চৌধুরী ও সাবেক প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরীর সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা,অনাদায়ে আরো ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অপর একজন আসামি মোহাম্মদ  সেলিমের আপিল খারিজ করে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হলেও আবদুল মালেক সোহেলের আপিল গ্রহণ করে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে বিচারিক আদালতে খালাস পাওয়া সাইফুল ইসলাম নামে আরেক আসামির পুনর্বিচার করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এতদিন জামিনে থাকা এসব আসামিদের মধ্যে নাসের,হুমায়ুন , সেলিম ও সোহেলকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাইফুলকেও পুনর্বিচারের জন্য বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
২০০৪ সালের ১১ এপ্রিল মাইক্রোবাসে করে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় দুষ্কৃতিকারীদের গুলিতে আহত হন কেইপিজেডের তখনকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর  গোলাম রাব্বানী। ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ দিন পর তার মৃত্যু হয়। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেল হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ছিলেন।
জাতির জনক  শেখ মুজিবুর রহমানের এডিসি হিসাবে দায়িত্ব পালন করা  নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা  গোলাম রাব্বানী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের  চেয়ারম্যান ও  নৌ-পরিবহন বিভাগের মহাপরিচালকও ছিলেন।
হামলার ঘটনার পর  কেইপিজেডের সাবেক প্রকৌশলী একেএম এমতাজুল ইসলাম চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় ‘হত্যাচেষ্টার’ অভিযোগে একটি মামলা করেন। গোলাম রব্বানীর মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
২০০৫ সালে চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এ মামলার আসামি মোহাম্মদ সেলিম,মোহাম্মদ হাশেম ও আব্দুল মালেক সোহেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। আবু নাসের চৌধুরী ও হুমায়ুন কবির চৌধুরীকে দেয়া হয় পাঁচ বছর কারাদণ্ড।
বিচারিক আদালতের বিচারক এম হাসান ইমাম রায়ের পর্যবেক্ষণে জানান,এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার ফারুক আহমেদের তদন্তে অনেক দুর্বলতা ও ফাঁকফোকর ছিল। তিনি অভিযুক্তদের কারো ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি নেননি। রাব্বানীর পরিবারের কোনো সদস্যকেও সাক্ষী করেননি।
রায়ের পর আসামিরা সবাই হাই কোর্টে আপিল করেন। আসামিদের সবার সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষও আপিল করে। এরইমধ্যে ২০০৫ সালে হাই কোর্ট থেকে জামিন পায় আসামিরা।
বিচারিক আদালতে দণ্ডিতদের মধ্যে যাবজ্জীবন পাওয়া হাশেম ২০০৮ সালে হাই কোর্টে  থেকে খালাস পান।
[b]ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি ( টাইমনিউজবিডি. কম ) // কেএইচ
[/b]