আগামী সপ্তাহের শুরুতেইসাবেক মন্ত্রীসহ আরও ৪ এমপির বিরুদ্ধে বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তথ্য গোপনের অভিযোগে থানায় পৃথক ৪টি মামলা দায়ের করছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)।

দুদক সূত্রমতে, আলোচিত বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের মালিক সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি, রাজশাহীর এনামুল হক এমপি, সাতক্ষীরার এম.এ. জব্বার এমপি এবং মিরপুরের আসলামুল হক এমপি’র বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তার প্রতিবেদন মামলার অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা রয়েছে। দুদকের অনুমোদন পাবার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানায় ২০০৪ সালের দুদক আইন ২৬ (২) এবং ২৭ (১) ধারায় মামলা দায়ের হবে।

সূত্র মতে, গত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেয়া হলফনামায় তাদের সম্পদের অসংগতির তথ্য রয়েছে। এবিষয়ে গত ২২ জানুয়ারি দুদক চেয়ারম্যান মো.বদিউজ্জামানের নেতৃত্বে কমিশন সভায় ৭ সাবেক মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী ও এমপি’র বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের ৭ কর্মকর্তা আলোচিত সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং বর্তমান এমপিদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার দায়িত্ব দেয়।

দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তারা আলোচিত ব্যাক্তিদের সম্পদের তথ্য উপাত্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। দুদক কর্মকর্তারা রেজিষ্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিষ্ট্রার অফিস, এনবিআর, বিআরটিএ, রাজউক, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি, রিহ্যাব, ব্যাংক-বীমাসহ অন্যান্য অফিসে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে সম্পদের হিসাব নির্ণয় করেছেন।

একই সঙ্গে নোটিশ পাঠিয়ে তাদের সম্পদের বিবরণী সংগ্রহ করেন।হলফনামা, তাদের সম্পদ বিবরণী এবং বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ শেষে তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনিদিষ্ট অভিযোগের সত্যতা পাচ্ছেন অনুসন্ধানী কর্মকর্তারা।

ইতোমধ্যে গত ২১ আগস্ট সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মোঃ নাসির উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান তালুকদার এমপির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক খায়রুল হুদা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুস সোবহান মামলা দায়ের করেন।

রুহুল হক: সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের প্রায় ১৬কোটি টাকার সম্পদ পেয়েছে দুদক। ডাঃ আ ফ ম রূহুল হকের অনুমোদনের পর বিরুদ্ধে মামলা করবেন অনুসন্ধানী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম।                                                                                   জানা যায়, হলফনামার হিসাব অনুযায়ী গত ৫ বছরে রুহুল হক ও তার স্ত্রী ইলা হকের ব্যাংক ব্যালান্স

বেড়েছে ১৬৫ গুণ। একই সময়ে অধ্যাপক আ ফ ম রুহুল হকের ব্যাংক ব্যালান্স বেড়েছে ১০ গুণ। ৫ বছর আগে নির্বাচনী মাঠে নামার সময় রুহুল হক ও তার স্ত্রীর নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত টাকার পরিমাণ ছিল ৯২ লাখ ৩৬ হাজার ১০৮ টাকা। এখন তাদের ব্যাংক ব্যালান্সের পরিমাণ ১০ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৩ টাকা।

২০০৮ সালে তার স্ত্রীর ইলা হকের ব্যাংকে ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩০ টাকা। এখন ৭ কোটি ৫৩ লাখ ১১ হাজার ২৪০ টাকা। ৫ বছরে বেড়েছে ১৬৫ গুণ। অন্যদিকে রুহুল হকের ব্যাংক ব্যালান্স ২০০৮ সালে ছিল প্রায় ৮৮ লাখ টাকা। এখন প্রায় ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

এনামুল হক: এনা প্রপার্টিজের মালিক রাজশাহীর-৪এর সংসদ সদস্য এনামুল হকের নামে ২ হাজার ১২০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। অনুমোদনের পর তার বিরুদ্ধে মামলা করবেন দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা উপ পরিচালক যতন কুমার রায়।

জানা যায়, এনামুল হক এমপি ২০০৮-০৯ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে এ সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

আসলামুল হক: হলফনামা অনুসারে গত ৫ বছরে আসলামুল হক এমপির জমির পরিমাণ বেড়েছে ৩৪ গুণের বেশি। ২০০৮ সালের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী তার ও স্ত্রী মাকসুদা হক ৪একর ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন।

ওই জমির মূল্য ছিল ২০ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা। দশম সংসদ নির্বাচনে পেশ করা হলফনামায় তিনি ও তার স্ত্রীর জমির পরিমাণ উল্লেখ করেন ১৪৫ দশমিক ৬৭ একর এবং মূল্য উল্লেখ করেন ১ কোটি ৯২ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা। সম্পদের তথ্য গোপন, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বিপুল পরমান অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

একই সঙ্গে কিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগের মামলার আসামি হচ্ছেন এমএ জববার এমপি।

ঢাকা, একে, ২৯ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম,এসআর