সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান এবং তার স্ত্রী সৈয়দা হাসিনা সুলতানাকে অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতি মামলায় আবারো তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ নাসির উদ্দিন তাদের কাছে এ তলবি নোটিশ পাঠান। নোটিশে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান খানকে ১ জানুয়ারি সকাল ১০টায় এবং তার স্ত্রী সৈয়দা হাসিনা সুলতানাকে ৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

জানা যায়, দুদকের পাঠানো পৃথক ২ নোটিশ সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান খানের বাসা 'মান্নান এপার্টমেন্ট' এ-৫, বাড়ি-৬, রোড নং-৯, ধানমন্ডি, ঢাকা এবং স্থায়ী ঠিকানা দোহার নবাবগঞ্জ কাটাখালি গ্রামেও নোটিশ পাঠনো হয় ।পৃথক ২ মামলায় স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই অন্তর্বর্তীকালিন জামিনে রয়েছেন। তবে দুটি জামিন আদেশই বাতিলের জন্য আবেদন জানিয়েছে দুদক।

জানা যায়, গত ২১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে ৭৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। এর দু’মাস পর ২১ অক্টোবর সৈয়দা হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৪৫ লক্ষ ৫৩ হাজার ৬৪০ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা করে।

দুটি মামলাই তদন্ত করছেন দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ নাসির উদ্দিন।

জানা যায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় উল্লেখিত অস্বাভাবিক সম্পদ বিবরণীর সূত্র ধরে গত ২২ জানুয়ারি মান্নান খান দম্পতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। নির্বাচনে পরাজিত মান্নান খান হলফনামায় ১১ কোটি ৩ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

অথচ নবম সংসদের হলফনামায় তার সম্পদের পরিমাণ ছিলো মাত্র ১০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণারয়ের প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে পাঁচ বছরে তার সম্পদ বাড়ে ১০৭ গুণ।

আর হলফনামায় উল্লেখিত অর্থের ১ কোটি ৪৪ লাখ ৬৩ লাখ ২২৭ টাকার উৎস দেখিয়েছেন মৎস্য চাষলব্ধ আয় থেকে। তার সৈয়দা হাসিনা সুলতানা গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও উল্লেখ করেছেন ‘ব্যবসায়ী’ হিসেবে। মৎস্য খাত থেকে স্ত্রীর আয় দেখিয়েছেন ৮৫ লাখ টাকা।

অথচ দুদক অনুসন্ধানে মান্নান খান কিংবা তার স্ত্রীর নামে কোথাও কোনো মৎস্য খামারের অস্তিত্ব পায়নি। দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে জমি বিক্রিবাবদ অর্জিত ২ কোটি টাকার তথ্য তিনি গোপন করেছেন। গ্রামের বাড়ি যে আলীশান ভবন নির্মাণ করেছেন তার অবৈধ অর্থের উৎস এবং মোট ব্যায়ের পরিমাণ উল্লেখ করেননি আয়কর বিবরণীতে।

একে