আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বলেছে, এখন থেকে কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা, ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর হামলা এবং কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কাজে বাধা প্রদান মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধের বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই।

মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জের সৈয়দ হাসান আলীর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর্যবেক্ষণ অংশে এসব কথা বলেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

এ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।

পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল আরো বলেছে, ‘আসামির অনুপস্থিতিতে রায় দেওয়া ট্রাইব্যুনালের জন্য হতাশাজনক। আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে এর আগে আমরা মন্তব্য করেছি। আসামির অনুপিস্থিতিতে বিচার হলে বিচার নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেন। আসামিপক্ষ যদি উপস্থিত থাকতো তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ শুনানির মাধ্যমে বিচার সম্পন্ন করা যেত।’

ট্রাইব্যুনাল বলেছে, ‘ট্রাইব্যুনাল আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে আদেশ দিতে পারেন। কিন্তু গ্রেপ্তারে পুলিশকেই ভূমিকা রাখতে হবে। আসামিকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থতা কোথায় সেই গবেষণা করার মতো সুযোগ ট্রাইব্যুনালের নেই। আসামি উপস্থিত হলে বিচার আরো গ্রহণযোগ্য হতো।’

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী শেষকৃত্য করার অধিকার রয়েছে। তা থেকে যদি কাউকে বঞ্চিত করা হয় এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা ও ভাংচুর করা হয়, তা-ও মানবতাবিরোধী অপরাধ। ট্রাইব্যুনাল সেকথাই বলেছেন।’

তুরিন আরো বলেন, ‘কাউকে শারিরিক নির্যাতনই শুধু নির্যাতন নয়, মানসিক নির্যাতন করলেও তা নির্যাতন হিসেবে গণ্য হবে বলে ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে বলেছেন।’

তবে হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধ বলতে বোঝায়: হত্যা, ধ্বংস, দাসত্ব, জনগণকে বলপূর্বক প্রত্যাবসন, কারাবন্দীত্ব, নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন দাসত্ব, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি, জোরপূর্বক গর্ভধারণ, জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ অথবা অন্যান্য যৌন সহিংসতা।

এসএইচ