মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় পার্টির সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের পক্ষে তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিখন্ডন অব্যাহত রয়েছে। যুক্তিখন্ডনে ভিঘ্ন ঘটালে কায়সারের অন্য আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদারকে এজলাস হতে বের করে দেবার হুমকি দেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার সকালে আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যর বেঞ্চে যুক্তিখন্ডন শুরু করেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান।
মধ্যাহ্ন বিরতির পর কায়সারের বিরুদ্ধে আনা পাঁচ নাম্বার অভিযোগের ওপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হলে ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ্য করে কিছু মন্তব্য করেন আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার।
এরপর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ধমক দিয়ে আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার কিছু বলার থাকলে ডায়াসের সামনে এসে বলুন। তা না হলে এখানে বসে এভাবে কিছু বলতে পারবেন না।
চেয়ারম্যান তরফদারের উদ্দেশ্যে বলেন, উনি বসে বসে টিটকারী মারছেন। একদম বের করে দেবো। এ সময় ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও মজিবুর রহমান মিয়াও চেয়ারম্যানের সঙ্গে একমত ছিলেন।
ট্রাইব্যুনাল আরো বলেন, সাক্ষীদের উনি (তরফদার) জেরা করেছেন। আর আপনি (শাহজাহান) যুক্তি উপস্থাপন করছেন। সম্ভাব্যতার জায়গা থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে পারেন না। আপনারা সাবমিশন রাখতে পারেন। এরপর থেকে আব্দুস সোবহান তরফদার ট্রাইব্যুনালে চুপ হয়ে বসেছিলেন। এ সময় প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজও ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
আজ তৃতীয় দিনের মতো যুক্তি উপস্থান করছেন কায়সারের আইনজীবী। এর আগে গত ৭ আগষ্ট কায়সারের বিরুদ্ধে যুক্তিখন্ডন শেষ করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থান শেষে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে ওই দিনই কায়সারের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়।
গত ২৩ জুলাই প্রসিকিউটর রানা দাশ গুপ্ত কায়সারের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। ওইদিন থেকে আজ ৭ আগস্ট পর্যন্ত মোট ছয় কার্য দিবস আদালতে যুক্তিখন্ডন করেন প্রসিকিউটর রানা দাশ গুপ্ত।
এর আগে এ মামলায় ৩১ জন সাক্ষী কায়সারের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামীপক্ষ তাদেরকে জেরাও করেন। তবে এই প্রথম কোন আসামী হিসেবে কায়সারের পক্ষে কেউ সাফাই সাক্ষ্য দেয়নি।
গত ২ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় আদালত।
কায়সারের বিরুদ্ধে গণহত্যার একটি, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি এবং ধর্ষণের দু’টিসহ মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। গত ৪ মার্চ তার বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন প্রসিকিউশন।
গত ৯ মার্চ থেকে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহন শুরু হয়। গত বছরের ১৫ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কায়সারের বিরুদ্ধে গ্রেফতাারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ২১ মে কায়সারকে রাজধানী অ্যাপলো হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা, কেএ, ১১ আগষ্ট, টাইমনিউজবিডি.কম





