আপিল বিভাগে মোবাইল ফোন ব্যবহার করায় ইংরেজি দৈনিক নিউএইজ এর ব্রিটিশ বংশোদ্ভুত সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে এজলাস কক্ষ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

সোমবার আপিল বিভাগে কামারুজ্জামানের রায় দেয়ার পরপরই এ ঘটনা ঘটে।

সকাল ৯টা ১০ মিনিটে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এস কে সিনহা জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের রায় ঘোষণা করেন। এর পরপরই আইনজীবীদের সারিতে বসা ডেভিড বার্গম্যান মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন।

এ সময় তাকে বলা হয়, মোবাইল ব্যবহার করছেন কেন। আপনি আগেও মোবাইল ব্যবহার করেছেন। আগেও আপনাকে এ বিষয়ে বলা হয়েছিলো। আপনি দাঁড়ান।

তখন বার্গম্যান বলেন, আমিতো মোবাইলে কথা বলিনি। এরপর বিচারপতি বলেন, এটা আদালত কক্ষ। এখানে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ নিষেধ, আপনি জানেন প্রবেশ নিষেধ।

এর জবাবে মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দেন বার্গম্যান। এরপরও দাঁড়িয়ে থাকলে আদালত তাকে উদ্যেশ্য করে বলেন, ‘গেট আউট’। পরে ডেভিড বার্গম্যান আদালত কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।

এছাড়া আদালত অবমাননার অভিযোগে ডেভিড বার্গম্যানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ‘আজাদ জাজমেন্ট অ্যানালাইসিস-১, ইন অ্যাবসেন্সিয়া ট্রায়াল অ্যান্ড ডিফেন্স ইনডিকোয়েন্সি’এবং ‘আজাদ জাজমেন্ট অ্যানালাইসিস-২, ট্রাইব্যুনাল অ্যাজাম্পশন’ শীর্ষক লেখা সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান তার নিজের ব্লগে প্রকাশ করেন।

এতে ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আবুল কালাম আযাদের রায় নিয়ে করা মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালের মর্যাদাহানি হয়েছে বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়।

২০১১ সালের ২ অক্টোবর ‘এ ক্রুসিয়াল পিরিয়ড ফর আইসিটি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর আদালত অবমাননার অভিযোগে প্রতিবেদক ডেভিড বার্গম্যান, নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির এবং প্রকাশক আ.স.ম. শহীদুল্লাহ খানকে কারণ দর্শাতে বলেন ট্রাইব্যুনাল।

শুনানি শেষে ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ডেভিড বার্গম্যানকে সর্বোচ্চ সতর্কাদেশ দেন আদালত। সে সময় আদালত অবমাননা হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল শুধু ভাবমূর্তির বিবেচনায় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। সূত্র: বাংলা নিউজ

এআর