পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ বৃহস্পতিবার।

দীর্ঘ দুই বছর ধরে বিচারকাজ চলার পর তাদের অভিযুক্ত মেয়ে ঐশী রহমান এবং তার দুই বন্ধুর বিষয়ে এ রায় দেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘নিজ সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতাকে হত্যার ঘটনা বিশ্বে বিরল। আসামিদের বিরদ্ধে আনীত অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।’

তিনি সব্বোর্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) আশা করছেন বলে জানান।

অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মাহবুব হাসান রানা বলেন, ‘আদালত ন্যায় বিচার করলে ঐশী রহমান খালাস পাবে। আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারেননি।

ঐশী শিশু হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রপক্ষ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে শিশু আদালতে বিচার না করে ট্রাইব্যুনালে বিচার করছেন। জোর করে জবানবন্দি নিয়েছে পুলিশ।’

এর আগে গত ৪ নভেম্বর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন। ঐশী ছাড়াও এ মামলায় অপর দুই আসামি হলেন- ঐশীর বন্ধু আসাদুজ্জামান জনি ও মিজানুর রহমান রনি।

অপর আসামি গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার মামলাটির বিচার চলছে শিশু আদালতে। গত বছরের ২০ মে সুমির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে সুমিকে জামিন দেন শিশু আদালতের বিচারক জাকিয়া পারভিন। গত বছরের ১ জুন গাজীপুরের কিশোর সংশোধন কেন্দ্র থেকে মা সালমা বেগমের জিম্মায় জামিনে মুক্তি পেয়েছে সে।

গত ২০ অক্টোবর ও ৪ নভেম্বর পক্ষে-বিপক্ষে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন উভয়পক্ষের আইনজীবীরা। রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মাহবুবুর রহমান ও আসামিপক্ষে মাহবুব হাসান রানা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

এ মামলায় ৫৭ সাক্ষীর মধ্যে বাদী ঐশীর চাচা মো. মশিহুর রহমান রুবেলসহ ৩৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবর মামলাটির প্রধান আসামি ঐশীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেন আদালত। আত্মপক্ষ সমর্থনকালে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তার বক্তব্য লিখিতভাবে আদালতে দাখিল করেন ঐশী। অন্য দুই আসামি জনি ও রনিও নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর পরদিন ঐশী গৃহকর্মী সুমীকে নিয়ে রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করে। পরে গ্রেফতার করা হয় অন্য দুই আসামি রনি ও জনিকে। এর মধ্যে গত ৩১ মার্চ আসামি রনির জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ ডিবির ইন্সপেক্টর মো.আবুয়াল খায়ের মাতুব্বর মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। গত বছরের ৬ মে ঐশীসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন মহানগর দায়রা জজ আদালত।

এসএইচ