হ্যালো, আমি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব বলছি। আপনি কি বাংলাদেশ ব্যাংকের এইচ.আর বিভাগ থেকে বলছেন? আপনার ব্যাংকে আমার এক আত্মীয় সিভি দিয়েছে। ব্যাপারটি একটু মাথায় রাখবেন।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিব ও উর্ধতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এভাবেই গত ২ বছর ধরে প্রতারণা করে আসছেন মো. লিয়াকত আলী। ভূয়া পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেন। তবে প্রতারণা করলেও টাকার বিনিময়ে তিনি ১৯ জনকে এভাবেই বিভিন্ন সচিবের পরিচয় দিয়ে চাকরির নামে প্রতারণা করে আসছিল চক্রটি।

শুক্রবার র‌্যাব-২ এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতা লিয়াকত (৫২) সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন।

তিনি বলেন, গত ২ বছর ধরে ভুয়া সচিব পরিচয়ে জমি-জমা সংক্রান্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ সমস্যার সমাধান করেছেন। আর চাকুরি দিয়েছেন ১৯ জনকে।

তিনি আরো বলেন, মাসুদ ও আল-আমিন তার কাছে বিভিন্ন জনের সিভি নিয়ে আসতেন। মূলত মাসুদের প্রচরণা তিনি এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে লিয়াকত (৫২), আল-আমিন (৩৮), মাসুদ (৩৫), মিজানুর (৩৪)কে আটক করে র‌্যাব-২।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-২ পরিচালক লেফট্যানেন্ট আবুল কালাম আজাদ বলেন, লিয়াকত ১৯৮৮ সালের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে শাখা সহকারি পদে চাকুরি যোগদান করেন। পরবর্তী ২০০৭ সালে আর্থিক দূর্নীতির অভিযোগে তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর চাকুরি করার সুবাদে মন্ত্রণালয়ে কার্যক্রম সম্পর্কে তার বিস্তর অভিজ্ঞতা হয়। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এসব প্রতারণা করছিলেন। এমন বেশ কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালিয়ে ফার্মগেট থেকে মূলহোতা লিয়াকতকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামলি শিশুমেলা থেকে বাকি তিনজনকে আটক করা হয়।

তিনি আরও বলেন, যাদের চাকরি দিত, তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা নিতেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কেউ এ চক্রের সাথে জড়িত কিনা তা এখনও জানা যায় নি। এ ব্যাপারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেইউ/এসএইচ