ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মো. আফজালের বিরুদ্ধে চাহিদা অনুসারে তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সরবরাহ করেনি ধর্ম মন্ত্রণালয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মো. আফজালসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা প্রকল্পের ৩৮ কর্মকর্তাকে মৌখিক নির্দেশে সরকারি চাকরিতে দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, ফিল্ড অফিসার পদে অতিরিক্ত নিয়োগ, প্রশিক্ষণের অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল করে অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুসন্ধানে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চলতি বছরের ৩১ আগস্ট বিভিন্ন নথিপত্র তলব করে চিঠি দেয় দুদক। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ৯ সেপ্টেম্বর তারিখের মধ্যে চাহিদা অনুসারে নথিপত্র দুদকে সরবরাহ করতে বলা হয়। যা এখনও পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়নি। দুদক সূত্র এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দুদকের এক অসমর্থিত সূত্রে জানা যায়, ধর্ম মন্ত্রণালয় চাহিদা অনুসারে তথ্য না দিলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংবাদ প্রকাশের পর ইফার ডিজি সামীম মো. আফজাল নিজেই এসেছিলেন দুদকে। তবে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার সঙ্গে নয়, কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেনি। দুদকের সিসি ক্যামেরার রেকর্ড দেখলে সামীম মো. আফজালের দুদকে আসার প্রমাণ পাওয়া যাবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ে যে সব নথিপত্র চাওয়া হয়েছে তা হলো— ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা প্রকল্পের প্রজেক্ট কনসেপ্ট পেপার, অনুমোদিত ডিপিপি, আইএমইডি কর্তৃক প্রজেক্ট মূল্যায়ন প্রতিবেদন, প্রকল্পে নিয়োজিত ১২ জন ফিল্ড অফিসার, ২৩ জন ফিল্ড সুপারভাইজর ও তিন জন মাস্টার ট্রেইনার নিয়োগ সংক্রান্ত নথি ও নোটশিট। ওই সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতাদির বিলের কপি, প্রশিক্ষণ ও ভ্রমণভাতা খাতে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত বরাদ্দকৃত বাজেট ও বিল ভাউচার, বর্ধিত খাতসমূহের খরচের হিসাব বিবরণীর সত্যায়িত ছায়ালিপি সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

বর্ধিত প্রকল্পের কেন্দ্রসমূহের পূর্ণ ঠিকানা ও প্রকল্প পরিচালকসহ ওই সব কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম-ঠিকানা, মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা প্রকল্পের সভার নোটিস, রেজুলেশন ও অনুমোদন সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত ছায়ালিপি সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত ছায়ালিপিও সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

ইফার ডিজি সামীম মো. আফজালের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তার মৌখিক নির্দেশে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পে সরকারি কোনো নিয়োগপত্র ছাড়াই দায়িত্ব পালন করে বেতন-ভাতা নিচ্ছেন ১২ ফিল্ড অফিসার, ২৩ ফিল্ড সুপারভাইজার ও তিন মাস্টার ট্রেইনার। ২০১১ সালের জুন থেকে দায়িত্ব পালন করছেন তারা। মৌখিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের পেছনে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক এ এম এম সিরাজুল ইসলামের যোগসাজশের বিষয়ও অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ভাতা হিসেবে প্রকল্পে রাখা সোয়া কোটি টাকা শিক্ষকদের না দিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। দাওয়াতি মাহফিল নামক অনুষ্ঠানের নামে এ টাকা খরচ দেখানো হচ্ছে। এ মাহফিলে শিক্ষকদের নিজ খরচে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া প্রকল্পে ভুয়া কেন্দ্র দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

ঢাকা শহরে দুই হাজার ও চট্টগ্রাম শহরে দেড় হাজার কেন্দ্র রয়েছে কাগজে-কলমে। ঢাকার দুই হাজার কেন্দ্রের মধ্যে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ৪০টি, দক্ষিণ গেটে ২০টি ও কমলাপুর রেলস্টেশনে ১০টি কেন্দ্রের কথা বলা হয়েছে। এভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে মাসে ৭০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৯২ সাল থেকে সারাদেশে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রকল্পটির এখন পঞ্চম ধাপ শেষ হয়েছে। ৬৪৩ কোটি টাকার এ প্রকল্পে সারাদেশের ৪৩ হাজার মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন কর্মরত আছেন। প্রায় ১২ লাখ শিশু লেখাপড়া করছে এ প্রকল্পের অধীন।

এএইচ