গৃহকর্ত্রীর নিক্ষিপ্ত গরম পানিতে ঝলসে গেছে রোজিনা আকতার (১২) নামে এক শিশু গৃহকর্মীর শরীর। শারীরিক নির্যাতনের কারণে রোজিনার মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাছাড়া নির্যাতন করে ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে তার দু’টি দাঁতও।

শিশু রোজিনা সুন্দরগঞ্জের বেকির চর গ্রামের দিনমজুর রবিউল ইসলামের মেয়ে। রোজিনা ঢাকার সাভারের একটি বাসায় কর্মরত অবস্থায় গরম পানিতে ঝলসে যায়। বর্তমানে সে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের ১৪নং বেডে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।

রোজিনার পরিবারের দাবী, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরের থানাপাড়ার কদর আলীর মেযে ও সাভার পৌরসভার কর্মচারী রুবেল মিয়ার স্ত্রী শাহনাজ আকতার সঙ্গে ৮ মাস আগে রোজিনাকে বাসায় কাজের জন্য নিয়ে যান।

রোজিনা ওই বাড়িতে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে রুবেল মিয়া ও তার স্ত্রী শাহনাজ রোজিনার উপর বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। এরই একপর্যায়ে গতকাল রোজিনা বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়তে চাইলে গৃহকত্রী শাহনাজ বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে তার শরীরে গরম পানি ঢেলে দেয়।

ফলে রোজিনার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। এ কথা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে তাকে বাড়িতেই চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করে গৃহকত্রী। কিন্তু রোজিনা যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকলে আশপাশের বাসার লোকজন ওই বাড়িতে ঢুকে তাকে উদ্ধার করে ওই এলাকায় কর্মরত তার এক আত্মীয়র হাতে তুলে দেয়।

স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী রুবেলের ভয়ে রোজিনার আত্মীয়-স্বজনরা সেখানে তার চিকিৎসা করাতে সাহস না পেয়ে তাকে গাইবান্ধায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে।

হাসপাতালে বেড়ে শুয়ে রোজিনা আকতার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রুবেল মিয়া আর তার স্ত্রী সন্তানের সংসারে কাজ করতে হতো। কোন কাজে সামান্য ভুল হলেই বেদম মারপিট করতেন রুবেল ও শাহনাজ। শুধু মারপিট নয়, সব সময় নির্মম আচরণ করতেন শাহনাজ বেগম’।

রোজিনার বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, ’সংসারে অভাবের কারণে দু’বেলা খবারের জন্য মেয়েকে বাড়ি থেকে সাভারে পাঠাই। কিন্তু মেয়েকে তারা নির্যাতন করে এমন অবস্থা করবে তা জানা ছিল না। এ ঘটনার তিনি রুবেল ও তার স্ত্রী শাহনাজের বিচার দাবি করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় তিনি সোমবার দুপুরে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করতে যান। কিন্তু ঘটনাটি সাভার থানা এলাকায় হওয়ায় থানা কর্তৃপক্ষ তার এজাহার গ্রহণ করেননি। তারা এজাহারপত্রটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাভার থানায় পাঠিয়ে দেন।’

এ বিষয়ে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফুল ইসলাম জানান, গরম পানিকে রোজিনার শরীর ঝলছে গেছে। এছাড়া তার ২টা দাঁত ভেঙ্গে গেছে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পাশাপাশি রোজিনা এখন মানসিকভাবে অনেকটাই বিপর্যস্ত। তার উন্নত চিকিৎসা প্রযোজন।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসরাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘রোজিনার বাবা এজাহার নিয়ে এসেছিলেন। তার এজাহারটি সাভার থানায় পাঠানো হয়েছে। সাভার থানা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন’।

এমআইএস