দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ঢাকা দক্ষিণের (ডিএসসিসি) বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। অভিযোগ গঠনের ফলে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে।

আজ বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিচারের জন্য আগামী ৯ ফেব্রুয়ারী সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণের (ডিএসসিসি) বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির জন্য আদালতে আবেদন করে ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার জন্য বক্তব্য তুলে ধরেন।

আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পড়ে শুনান, এবং জবাব চান। বলুন, আপনি দোষী না নির্দোষ। উত্তরে-আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবী করে এবং সু-বিচার প্রার্থনা করে। আদালতে আসামির জবাবে চার্জ গঠন করেন।

প্রসঙ্গত, দুদকের করা মামলায় গত বছরের ৫ মে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে চার্জশীট আমলে নেয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল।

ওই দিন ইশরাক আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ চার্জশীট আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার ৪নং বিশেষ জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন। ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

এরআগে, ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইশরাক হোসেন এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণী দুদকে দাখিলের নোটিশ দেয়া হয়। একই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর দুদকের কনস্টেবল তালেব কমিশনের নোটিশ জারি করতে তাদের বাসভবনে যান। কিন্তু ইশরাক হোসেন সেখানে উপস্থিত না থাকায় উপস্থিত চারজনের (সাক্ষী) সামনে বাসভবনের নিচতলায় প্রবেশ পথের বাম পাশের দেয়ালে স্কচটেপ দিয়ে ঝুলিয়ে নোটিশটি জারি করেন। দুদকের দেয়া ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ইশরাক হোসেন সম্পদের হিসাব নির্ধারিত ফরমে দাখিল করেননি। এ ঘটনায় ২০১০ সালের ২৯ আগস্ট রাজধানীর রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক সামছুল আলম।

এএস