ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মহাপরিচালক সহিদুর রহমানকে টানা দুই ঘন্টা জেরা করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানী কর্মকর্তা।

কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদকালে তিনি প্রকৃত মক্তিযোদ্ধার সপক্ষে প্রমাণাদি দেখাতে পারেননি বলে জানা যায়। অথচ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় অতিরিক্ত দুই বছর চাকরি করেছেন।

বুধবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দুদকের সহকারি পরিচালক সলিনা আক্তার মনি তাকে জিজ্ঞসাবাদ করেন। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবির সপক্ষের নথিপত্র চেয়েছেন কিন্তু সহিদুর রহমান কৌশলে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন।

নাম না প্রকাশের শর্তে দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, সহিদুর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা ইন্টাভিউ নিয়ে ছিলেন তার নাম, পদবি এবং তারিখ বলতে পারেন না। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকায়ও তার নাম নেই। তার এলাকার লোকজন তাকে মুক্তিযোদ্দা হিসেবে চিনেন না।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপটেন (অব.) তাজুল ইসলামও পানি উন্নয়ন বোর্ডেন তৎকালীন ডিজি সহিদুর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনাক্ত করেন নি।

আরও জানা জায়, অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেট এবং প্রত্যয়ন পত্রের সঙ্গে সহিদুর রহমানের দাখিল করা কাগজ-পত্র মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

দুদকের ওই কর্মকর্তা বলেন, সদ্য অবসরে যাওয়ার আগে সহিদুর রহমান দুদককে থ্রেট করেছে। তাকে তলবি নোটিশ পাঠালে তিনি উল্টা বলেছেন কিছু জানতে হলে তার দফতরে আসতে হবে।

শুধু তাই নয়, সর্বশেষ গত ২০ নভেম্বর তাকে তলব করা হলে, তিনি একদিন আগে চিঠি পাঠিয়ে জানান ২৬ নভেম্বর বিকাল ৩ টায় আসবেন। তার ইচ্ছা মতো আজ বিকাল ৩টায় দুদকে আসেন এবং বিকাল ৫টায় বেরিয়ে যান।

যাবার সময় দুদক গেটে অপক্ষমান সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দুদক অনেক কিছু জানতে চেয়েছে আর তিনি জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়েছেন এবং অতিরিক্ত চাকরি করেছেন বলে জানান। সহিদুর রহমান বলেন, ২-৩টি পক্রিকা তাকে রাজাকারের ছেলে উল্লেখ করে প্রতিবেদন করেছেন। যার ফলে দুদক তাকে ডেকেছে।

এর আগে সাইদুর রহমানকে তিনবার তলবি নোটিশ পাঠায় দুদক। তবে তিনি একবার দুদকে হাজির হয়েছেন বলে জানা যায়। আর প্রতিবারই তিনি মিডিয়াকে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেছেন।

একে/কেএইচ