ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার বিষয়ে ব্যক্তিগত ব্লগে আপত্তিকর মন্তব্য করায় আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্রিটিশ নাগরিক সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না- সে বিষয়ে রুলের শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ১৩ অক্টোবর এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ও শেষ দিনের মতো আসামিপক্ষে শুনানি করেন বার্গম্যানের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। আবেদনকারী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মিজান সাইদ।

আগামী ১৩ অক্টোবর এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার বিষয়ে ২০১১ সালের ১১ নভেম্বর ও ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ব্যক্তিগত ব্লগে লেখেন ডেভিড বার্গম্যান। এতে বার্গম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে শাস্তির আবেদন জানান হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ। এ আইনজীবী ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া এবং রায় সম্পর্কে ব্লগে মন্তব্য করায় কেন বার্গম্যানের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শো’কজ) নোটিশ জারি করা হবে না তা জানতে চাওয়ারও আবেদন করেন।

এ অভিযোগের শুনানি শেষে গত ২০ ফেব্রুয়ারি তার মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বার্গম্যানকে তলব করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। ৬ মার্চ তাকে সশরীরে হাজির হয়ে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে এ ব্যাখ্যা দিতে বলেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন বার্গম্যানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান খান দুই সপ্তাহের সময়ের আবেদন জানালে ১৮ মার্চ দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ১৮ মার্চ ডেভিড বার্গম্যান ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে শো’কজ নোটিশের জবাব দেন। তার পক্ষে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান ট্রাইব্যুনালে নোটিশের লিখিত জবাব দেন।

কিন্তু ট্রাইব্যুনাল তাতে সন্তুষ্ট না হওয়ায় কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না- জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান বর্তমানে ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউএজের বিশেষ প্রতিনিধি। তিনি সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের মেয়ের জামাতা।

আবেদনকারী আইনজীবী তার আবেদনে বলেন, সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান তার নিজস্ব ওয়েবসাইটে (bangladeshwarcrimes.blogspot.com) আজাদ জাজমেন্ট অ্যানালাইসিস-১; ইন অ্যাবসেন্সিয়া ট্রায়াল অ্যান্ড ডিফেন্স ইনডিকোয়েন্সি এবং আজাদ জাজমেন্ট অ্যানালাইসিস-২; ট্রাইব্যুনাল অ্যাজাম্পশন শীর্ষক বিতর্কিত লেখা প্রকাশ করেন।

এসব লেখায় ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের রায় নিয়ে করা মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালের মর্যাদাহানি হয়েছে বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই আইনজীবী তার আবেদনে ডেভিড বার্গম্যানের ব্লগে অপর ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় নিয়ে করা মন্তব্যেও আদালত অবমাননা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার আগে থেকেই এই ব্রিটিশ সাংবাদিক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে কাজ শুরু করেন। একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে গবেষণা, বিভিন্ন লেখালেখি ও কয়েকটি ভিডিও ডকুমেন্টারি তৈরি করেছেন ডেভিড বার্গম্যান।

ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডেভিড বার্গম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার বিষয়ে এ আবেদনের আগেও একবার তাকে সতর্ক করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

২০১১ সালের ২ অক্টোবর জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউএজের সম্পাদকীয় পাতায় বার্গম্যানের ‘আ ক্রুশিয়াল পিরিয়ড ফর আইসিটি’ শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশিত হয়।

৩ অক্টোবর আদালত অবমাননার অভিযোগে প্রতিবেদক ডেভিড বার্গম্যান, নিউএজের সম্পাদক নুরুল কবির এবং প্রকাশক আ স ম শহীদুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে এর কারণ দর্শাতে রুল জারি করেন। শুনানি শেষে ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে প্রতিবেদক ডেভিড বার্গম্যানকে সর্বোচ্চ সতর্ক করেন।

সে সময় আদালত অবমাননা হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল শুধুমাত্র ভাবমূর্তির বিবেচনায় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।

ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ