রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় কাঠের আলমারী হতে উদ্ধারকৃত সেই অজ্ঞাতনামা মৃতদেহ আর কারো নয়, তিনি একজন আম ব্যবসায়ী। নাম মান্টু। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার তেলকুপি গ্রামে।
গত ৩০ নভেম্বর বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনিনিখোঁজ হন।এরপর তার মৃতদেহ ৯/২ ভগবতি ব্যানার্জি রোডে একটি কাঠের আলমারী হতে উদ্ধার করা হয়।
ওয়ারি থানা পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
টাকা যাতে পরিশোধ করতে না হয় সে জন্য বাকিতে আম নেয়া কয়েক ব্যবসায়িমিলে মন্টুকে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় গত সোমবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে মাসুদ খন্দকার ওরফে জনি (২৮), ইমরান হোসেন ওরফে রাজা (৩০) ও তারেক আহমেদ (২৮)কে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ওয়ারী থানা পুলিশ।
গত ১ সেপ্টেম্বর ওয়ারী থানা পুলিশ ৯/২ ভগবতি ব্যানার্জি রোডে কাঠের আলমারী হতে অজ্ঞাত পরিচয়ে মান্টুর মৃতদেহ উদ্ধার করে।
সে সময় পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে, অজ্ঞাতনামা খুনিরা শ্বাসরোধ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের মাধ্যমে হত্যা করে মৃতদেহ কাঠের আলমারীতে ভরে রাস্তার উপর ফেলে যায়।
এ ঘটনায় ওয়ারী থানার এসআই আঃ খালেক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে। মামলার প্রেক্ষিতে ওয়ারী থানা পুলিশ রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে তদন্ত শুরু করে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে বড় ভাই শাহজাহান ওয়ারী থানায় এসে নিহতের ছবি দেখে মান্টু নিজের ছোট ভাই বলে সনাক্ত করে।
শাহজাহান জানায়, তার ভাই মান্টু আমের ব্যবসা করত এবং ঢাকায় কিছু আমের ব্যবসায়িকে আম সরবরাহ করত। লাভের আশায় নিজ এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকা থেকে স্বল্প দামে আম কিনে এনে যাত্রবাড়ী বাজারেবিক্রি করতো।
শাহজাহান পুলিশকে জানায়, তার ভাই মান্টু গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে উত্তর যাত্রাবাড়ী ফরিদ নামক এক ফল ব্যবসায়ির বাসায় ছিল বলে তাদেরকে মোবাইলে জানিয়েছিল। ওই দিন মধ্য রাতের পরে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাকে আর পাওয়া যায়নি।
ওয়ারি থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ দায়ের করা মামলায় উত্তর যাত্রাবাড়ী ফরিদের ১১১/৩ এর ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়।
কিন্তু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ আসার আগেই ফরিদ সপরিবারে মালামালসহ বাসা ছেড়ে চলে যায়। তবে পুলিশ ফরিদের স্ত্রী শাহিনুর হাসান পান্না (৩১) কে যাত্রাবাড়ী এলাকা হতে গ্রেফতার করে।
এব্যাপারে ওয়ারি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তপন চন্দ্র সাহাটাইমনিউজবিডি'কে বলেন, পান্নাকে পুলিশী হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পান্না পুলিশকে জানায়, ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে আমের পাওনা টাকা পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মান্টুকে তারা হত্যা করে। তার স্বামী হিমেল হাসান ফরিদ মান্টুকে আমের টাকা পরিশোধ করার কথা বলে তাদের বাসায় ডেকে আনে।
পরিকল্পনা মোতাবেক ফরিদ ও তার বন্ধু ব্যবসায়িক অংশীদার মাসুদ খন্দকার ওরফে জনি, ইমরান হোসেন ওরফে রাজা, রহমান ও শাহিন হাসান পান্না একত্রে মান্টুকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যা করে।
পরে মান্টুর মৃতদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তারেক আহমেদ এর মাধ্যমে ভ্যান ভাড়া করে। ওই বাসার কাঠের আলমারীর মধ্যে মৃতদেহ কৌশলে ঢুকিয়ে পরের দিনগত রাতে আলমারীসহ মৃতদেহ ভগবতি ব্যানার্জি রোডে ফেলে যায়।
পরে পান্নার দেয় তথ্য মতে মাসুদ খন্দকার ওরফে জনি (২৮), ইমরান হোসেন ওরফে রাজা (৩০) ও তারেক আহমেদ (২৮) দেরকে গত সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে ওয়ারী থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।
ওসি তপন চন্দ্র সাহা আরও বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামীদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদালতের নির্দেশে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
ফরিদের স্ত্রী পান্নাকে থানা হাজতেই রাখা হয়েছে। ফরিদ ও রহমান বর্তমানে পলাতক আছে। তাদেরকে গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ডিএমপি’র যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়িক পাওনা টাকা পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মান্টুকে তারা হত্যা করা হয়েছে।
মৃতদেহ উদ্ধারের খবরের পরপরেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এই চারজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। শিগগিরী বাকী আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ঢাকা, জেইউ, ৯ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর





