দেশের ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হুমকি দেয়ায় নড়েচড়ে বসেছে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। উগ্র জঙ্গিবাদী সংগঠন আনসারুল্লাহ’র ১৩ নম্বর টিমের নাম করে দেয়া এই হুমকির প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম। এছাড়াও র্যাবের জঙ্গি দমন সংক্রান্ত বিশেষ সেলও বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তিন ব্লগার খুনের রেশ কাটতে না কাটতে জঙ্গিদের এমন হুমকি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি ওই ১০ ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দেয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ইব্রাহিম ফাতেমি বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। ইতিমধ্যে এই বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। আমরা হুমকিদাতাদের চিহ্নিত করতে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
জানা যায়, গত মার্চ থেকে তিন ব্লগার অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু এবং সর্বশেষ চলতি মাসে সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাসকে হত্যা করে উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। এক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ না হতেই ঘটছে আরেক হত্যাকাণ্ড। তার মধ্যেই নতুন সংযোজন ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি।
সূত্র জানায়, এর আগের হত্যাকাণ্ডগুলোও পূর্বে হুমকি দিয়ে ঘটানো হয়েছে। এমনকি অভিজিত আমেরিকা থাকা অবস্থাতেও তিনি দেশে আসলে হত্যা করা হবে এমন হুমকি দেয় জঙ্গিরা। হুমকি অগ্রাহ্য করে বইমেলা উপলক্ষ্যে দেশে আসলে জঙ্গিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
এ রকম এক পরিস্থিতিতে হুমকি আসায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জানান, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের আদলে গড়া এই সংগঠনের সদস্যদের গ্রেফতার খুবই কঠিন কাজ। বিভিন্ন স্লিপার সেলে বিভক্ত এই জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা একে অপরকে কেউ চেনে না। শুধুমাত্র কোন উদ্দেশ্য সাধন করার সময়ই তাদেরকে একে অপরের সঙ্গে পরিচিত করানো হয়। এমনকি এই সকল সদস্যরা নিজেদের প্রকৃত নামও গোপন করে চলে। এ কারণে এদের খোঁজ পাওয়া কঠিন ব্যাপার।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যাকাণ্ডের সময় দুইজনকে হাতেনাতে আটক করেছিল জনতা। ওই সময় গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। তাদের সেই তথ্যে নিজেরা কিভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সেই বর্ণনা এসেছে তবে অন্তরালে থাকা ব্যক্তিদের ব্যাপারে তাদের কাছে কোন তথ্য নেই। যে কারণে তদন্তও ওই পর্যন্ত থেমে গেছে।
কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেফতার হওয়া দুজনের মধ্যে একজন ছিলো চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও একজন মিরপুরের মাদ্রাসার ছাত্র। এ থেকে ধারণা করা যায় বিভিন্ন মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু ছাত্রকে মোটিভেশনের মাধ্যমে দলে ভিড়িয়ে রেখেছে তারা। শুধুমাত্র কাজের আগে তাদের একত্রিত করা হয়। এ কারণে মূল সংগঠনকে খুঁজে পাওয়াটা মুশকিল।
তবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ১০ ব্যক্তিকে হুমকি দেয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা এই বিষয়ে বিভিন্ন নথিপত্র নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।
এদিকে হত্যার হুমকি দেয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সচিবালয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, হুমকি দেয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে সরকার।
র্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, র্যাবের জঙ্গি দমন সংক্রান্ত বিশেষ সেলও কাজ শুরু করেছে। তারাও আনসারুল্লাহ’র স্লিপার সদস্যদের গ্রেফতারে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারসহ ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দিয়েছে আল কায়েদা-আনসারুল্লাহ বাংলাটিম-১৩।
ডাকযোগে পাঠানো ইংরেজিতে লেখা একটি চিঠিতে এ হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এএইচ





