ঘুষের মামলায় জামিন পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জের স্কুলশিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত। নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন বুধবার তার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। শ্যামল কান্তিকে আদালত আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান। 

২৪ মে বিকেলে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্ত।
এমপি সেলিম ওসমানের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার পর এ শিক্ষক দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় এক শিক্ষিকাকে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। 

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৪ বন্দর পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ইংরেজির শিক্ষিকা মোর্শেদা বেগমের চাকরি এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার জন্য তার কাছ থেকে দুই দফায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু মোর্শেদা বেগমকে এমপিওভুক্ত করার কোনো উদ্যোগ নেননি।

এই ঘটনায় গত বছরের ২৭ জুলাই মোর্শেদা বেগম বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। আদালত বন্দর থানা পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন। গত ১৭ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশিদ শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির চারটি ধারায় (১৬১/৪১৭/৪০৬/৪২০) অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। 

তবে শ্যামল কান্তি ভক্তের দাবি, তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় উচ্চ আদালতে চলমান মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে এই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

এমএনজে