১৯৭২ সালের ৮ মার্চ পিরোজপুরে রাজাকারদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সাঈদীর নাম ছিল না বলে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।
সোমবার সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনানিতে বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে ওই মামলার সত্যায়িত অনুলিপি উপস্থাপন করে এসব যুক্তি উপস্থাপন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।
এ সময় বলা হয় ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে ইব্রাহিম কুট্টি হত্যার অভিযোগে ১৯৭২ সালের ৮ মার্চ পিরোজপুর মহাকুমা আদালতে নিহতের স্ত্রী মমতাজ বেগম একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় পাকিস্তান বাহিনীর এ দেশিয় সহযোগি দানেশ মোল্লাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু ওই মামলায় আসামিদের তালিকায় জামায়াতের নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম ছিল না।’
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে আপিল দায়ের করেন জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা।
এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর আপিল আবেদন শুনানি শুরু হয়। শুনানির ২৫তম দিনে আবেদনের ওপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
বিদেশে অবস্থান করায় আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের অনুপস্থিতিতে এডভোকেট এস এম শাহজাহান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন।
সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের আনীত ২০টি অভিযোগের মধ্যে আট নম্বর অভিযোগ নিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। পরে ১০ নম্বর অভিযোগে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়।
আট নম্বর অভিযোগ নিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সাঈদীর আইনজীবী বলেন, আসামিপক্ষের তিন সাক্ষী ইব্রাহিম কুট্টি হত্যার বিষয়ে আদালতে যে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন ওই সাক্ষ্যের সঙ্গে কুট্টি হত্যায় দায়ের করা মামলার বিবরণের মিল রয়েছে। ১৯৭২ সালের ৮ মার্চ নিহতের স্ত্রী মমতাজ বেগমের দায়ের করা মামলায় একাত্তরের ১০ অক্টোবরকে ঘটনার তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ রাষ্ট্রপক্ষ বলছে ওই বছরের ৮ মে ঘটনাটি ঘটেছিল।
ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রী মামলায় পিরোজপুরের নলবুনিয়া গ্রামকে ঘটনাস্থল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু রাষ্ট্র পিরোজপুরের চিতলিয়া গ্রামকে ঘটনাস্থল হিসেবে দাবি করেছেন।
আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে ২০টি অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়েছিল। এর মধ্যে আটটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে।
ওইসব অভিযোগের দু’টিতে তাকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয়টি অভিযোগে কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে আদালতের দর্শক সারিতে আল্লামা সাঈদীর সেজো ছেলে মাসুদ সাঈদী উপস্থিত ছিলেন।
[b]ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এফএ[/b]
অপরাধ
বাহাত্তরে রাজাকারদের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাঈদীর নাম ছিল না
১৯৭২ সালের ৮ মার্চ পিরোজপুরে রাজাকারদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সাঈদীর নাম ছিল না বলে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী





