জিয়া অরফানেজ  ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লিভ টু আপিল নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবেন আগামী ২৬ অক্টোবর আপিল বিভাগ।

আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৫  বিচারপতির বেঞ্চ  এ  সিদ্ধান্ত দেন।

জানা যায়, আপিল বিভাগের অবকাশকালীন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিয়া গত ১৪ অক্টোবর এক আদেশে খালেদা জিয়ার আবেদনের উপর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে ২৭ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেন। এরপর দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) শুনানির দিন এগিয়ে আনতে গত ১৬ অক্টোবর আবেদন করে।

আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত গত ১৯ অক্টোবর এ আবেদনের উপর শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে ২৩ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

আজ  নির্ধারিত দিনে দুদকের আবেদনের উপর প্রথমে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং পরে খালেদা জিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন শুনানি করেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, এ জে মোহাম্মদ আলী, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, তৈমুর আলম খন্দকার, বদরুদ্দোজা বাদল, রুহুল কুদ্দুস কাজল, রাগিব রউফ চৌধুরী, এহসানুর রহমান প্রমুখ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিতে খুরশীদ আলম খান বলেন, এ মামলায় নিম্ন আদালতে সাক্ষ্য গ্রহনের জন্য রয়েছে। কিন্ত একই মামলা নিয়ে তারা বারবার উচ্চ আদালতে আসছে। ফলে সাক্ষ্যগ্রহণ করা যাচ্ছেনা।

আদালত আগামী ২৭ নভেম্বর আপিল বিভাগে শুনানির জন্য রেখেছেন। এতে নিম্ন আদালতে বিচার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। তাই শুনানির দিন এগিয়ে আনার জন্য আবেদন করেছি।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, অবাকশকালীন বেঞ্চের আদেশে কি ভুল আছে তা দুদকের আবেদনে বলা হয়নি। তিনি বলেন, উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে ও শুনানির পর দিন ধার্য করা হয়। এখন এসে তারা দিন এগিয়ে আনার আবেদন করেছে। কি কারণে এগিয়ে আনতে হবে তা বলেনি দুদক। আমরাই চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিলাম।

জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন,  উচ্চ আদালতে মানুষ ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় আসে। আপনারা সময় দিয়ে থাকেন। এজন্যই আমরা আসি।

এসময় জয়নুল আবেদীন বলেন, দুদক অসৎ উদ্দেশ্যে আবেদন করেছে। তিনি বলেন, নিম্ন আদালত খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিইে অভিযোগ গঠন করেছে। তাকে অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়নি। তিনি বলেন, এখন মোডিফিকেশন আবেদন করা হয়েছে। এভাবে মোডিফিকেশন করা হলে বিচার প্রার্থীদের মনে সংশয়ের সৃস্টি হতে পারে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালত একবার আদেশ দিলে সে আদেশ তো মোডিফিকেশন করতেই পারেন।  পরে আগামী রবিবার(২৬ অক্টোবর) আদেশের দিন ধার্য করেন। প্রধান বিচারপতি উভয় পক্ষের আইনজীবীদের কাছে জানতে চান, জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা নিয়ে মোট কয়টি আবেদন এখানে বিচারাধীন। সব আবেদনই দুদকের করা কীনা?

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, তিনটি আবেদন রয়েছে। জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় অভিযোগ গঠন নিয়ে একটি এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অভিযোগ আমলে নেওয়ার বিষয়ে অপর একটি আবেদন আছে। আদালত বলেন, এ দুটি আবেদন কোন অবস্থায় আছে। খুরশীদ আদালত খান বলেন, বিচারাধীন অবস্থায় আছে।  

আদালত বলেন, রোববার আদেশের জন্য রাখা হলো। এ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট্র-এর ক্ষেত্রে করা আবেদন রবিবার আদেশের জন্য আসবে। অপর দুটি আবেদন তালিকায় থাকবে।

এদিকে  ঢাকার বিশেষ জজ-৩ বাসুদেব রায় গত ১৯ মার্চ এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়া গত ১৩ এপ্রিল হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। হাইকোর্ট ২৩ এপ্রিল আবেদনটি খারিজ করে দেন। এ খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল আবেদন করেন।

এ মামলায় বিচারিক কার্যক্রম ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের পরিবর্তে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসংলগ্ন সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্মিত অস্থায়ী আদালত ভবনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য রয়েছে।

একে, কেবি