ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০০৫ (২৯ এপ্রিল ২০১৩ সালে সংশোধিত) লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালাচ্ছে তামাক কোম্পানি ‘ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ’ (বিএটিবি)।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় বেনসন অ্যান্ড হেজেজ সিগারেটের প্রচারণার লক্ষ্যে কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ৫ ধারা অনুসারে, তামাকজাত দ্রব্যের সকল ধরনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনের ধারা ৫-এর উপধারা ১-এর ‘ক’-তে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি প্রিন্ট বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায়, বাংলাদেশে প্রকাশিত কোনো বই, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, পোস্টার, ছাপানো কাগজ, বিলবোর্ড বা সাইনবোর্ডে বা অন্য কোনোভাবে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করিবেন না বা করাইবেন না। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং তিন মাস কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।’
তামাকবিরোধীরা মনে করেন, এ ধরনের কনসার্টের আয়োজন মূলত বিএটির মুনাফা বৃদ্ধি। বিএটি তরুণ ভোক্তাদের বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের ধূমপানের মতো মরণঘাতী নেশায় ধাবিত করার মাধ্যমে তাদের মুনাফা বাড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আইন লঙ্ঘন করে বিএটির এ ধরনের প্রচারণা বা কনসার্ট আয়োজন শুধু আইনের প্রতি অশ্রদ্ধাই নয়, রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতিও অশ্রদ্ধা।
বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট মনে করে, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করা রাষ্ট্রের প্রতি অবমাননা ও অসম্মান প্রদর্শন। তাই বিএটির সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আটক করে আইনের আওতায় আনা দরকার। এ ছাড়া মানুষকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করতে সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ করার জন্য বিএটিকে বাধ্য করা জরুরি।
বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের নির্বাহী সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সুজন বিএটির তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ভঙ্গ করে এ ধরনের প্রচারণার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘তামাক কোম্পানির আইন ভঙ্গ করে এ ধরনের কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তামাক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সরকারের অর্জনকে ব্যাহত করবে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।’
অবিলম্বে তামাক কোম্পানির এ বিজ্ঞাপন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি খুলনায় তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচারের দায়ে বিএটির এক কর্মীকে জরিমানা করা হয়। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচারের দায়ে ব্যক্তিকে জরিমানা করা হলেও কোম্পানিকে খুব কমই জরিমানা করা হয়েছে।
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





