ফেনীর সোনাগাজীতে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি (১৮)’কে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্তকৃত প্রিন্সিপাল সিরাজ উদ দৌলাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
আজ (১০এপ্রিল) বুধবার জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরফ উদ্দিনের আদালতে হাজির করলে বিচারক প্রিন্সিপালকে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গণমাধ্যমকে এইসব তথ্য জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) সোনাগাজী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, “এছাড়া মাদ্রাসার শিক্ষক আফছার উদ্দিন ও মাদ্রাসার ছাত্র আরিফকেও আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হয়। প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত প্রিন্সিপালের ৭ দিন এবং বাকি দুজনের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।”
এর আগে গতকাল (০৯ এপ্রিল) একই আদালতে নুর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন ও শাহিদুল ইসলামের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে আটক অধ্যক্ষের শ্যালিকার মেয়ে উম্মে সুলতানা পপি ও মামলার এজহার নামীয় আসামি যোবায়ের হোসেনকে আদালতে তোলা হয়েছে। তাদেরও ৭দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেন।
নুসরাত জাহান রাফি এবার সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। তিনি সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মাওলানা এ কে এম মুসা মানিকের মেয়ে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।
গত ০৬ এপ্রিল (শনিবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাদ্রাসা ভবনের ছাদে দুর্বৃত্তরা তাঁর গায়ে আগুন দেয়। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজউদ্দৌলা গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহানের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। নুসরাত বিষয়টি বাসায় জানালে তাঁদের মা সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোনাগাজী থানা পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে।
এরপর মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় সিরাজউদ্দৌলার লোকজন। কিন্তু নুসরাত অপারগতা প্রকাশ করেন। এই অবস্থায় আলিম পরীক্ষা শুরুর দিন থেকে ভাই নোমান নুসরাতকে পরীক্ষার হলে বসিয়ে দিয়ে আসতেন। গতকাল তিনি তাই করেন।
এমবি





