প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক অসুস্থতাজনিত কারণে দীর্ঘদিন আদালতে হাজির না থাকলেও আজ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আদালতে এসেছেন।
আজ (সোমবার) হাইকোর্টে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়।
আদালতে বিপুল সংখ্যক আইনজীবীদের উপস্থিতি দেখে ভীড় কমানোর নির্দেশ দেন ২ বিচারপতি। ১০ মিনিটের সময় দিয়ে এজলাশ থেকে নেমে খাস কামরায় চলে যান তারা। এরপর বেলা আড়াইটার দিকে বিচারকরা এজলাশে ফিরে এলে শুনানি শুরু হয়।
একজন আইনজীবী জানিয়েছেন, বিচারকরা নির্ধারিত সময় দুপুর দুইটায় আদালতে প্রবেশ করে সেখানে বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ও দলীয় নেতার উপস্থিতি লক্ষ্য করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় ভিড় কমানোর ব্যাপারে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিচারকরা বলেন, এ অবস্থা থাকলে আদালতকে উঠে যেতে হবে।
এর জবাবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, এটা গুরুত্বপূর্ণ মামলা। তাই আইনজীবীদের এত ভিড়।
আর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, আমি আগে থেকে বলেছিলাম আইনজীবীদের প্রবেশ সংখ্যা নির্ধারণ করে দেন।
এসময় আদালত বলেন, আমরা ১০ মিনিটের জন্য নেমে যাচ্ছি। আপনারা এর মধ্যে দেখুন কী করবেন। এরপর বিচারপতিরা এজলাশ কক্ষ ত্যাগ করেন।
তখন এজলাশে ভিড় কমাতে আইনজীবীদের এজলাশ কক্ষ থেকে বাইরে যেতে বাধ্য করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন, সভাপতি জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।
পরে আদালতের ভেতরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিচারকরা এজলাসে বসেন।
আবেদনের ওপরে প্রথমে শুনানি শুরু করছেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। এরপর খালেদা জিয়ার পক্ষে অন্য আইনজীবীরা শুনানি করবেন।
মামলায় শুনানির জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষে এজলাসে উপস্থিত আছেন- ব্যারিস্টার রফিক উল হক, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।
রাষ্ট্রপক্ষে আছেন- অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আছেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ওয়ান-ইলেভেনের সময় গ্রেফতার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে জামিন শুনানি করেছিলেন এবং তার শুনানিতে তারা উভয়েই জামিন পেয়েছিলেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঢাকার বকশিবাজার আলীয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত ৫নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এবং তারেক রহমান’সহ বাকি ৫ আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড’সহ ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে আদালত।
খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। রায়ে তারেক রহমান, শরফুদ্দীন আহমেদ ও মমিনুর রহমানকে পলাতক দেখানো হয়েছে।
রায়ের দিন আদালত ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পড়া হয়। রায়ের অনুলিপি ১ হাজার ১৭৪ পৃষ্ঠার।
রায়ের পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। নির্জন কারাগারের একমাত্র বন্দি হিসেবে বেগম জিয়া সেখানেই আছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান’সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২০১০ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।
এমবি





