রাজধানীর খিলক্ষেতে গোবাদি পশু ও হাঁস মুরগীর ঔষধ তৈরীর অবৈধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে মেহেদী হাসান (২০) নামে একজনকে সাজা দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত।

বুধবার সকালে টানপাড়া নিকুঞ্জ-২ এর ১ নম্বর রোডের খ-১৭৮/ডি নম্বর বাড়ির ওই কারখানায় এ অভিযান চালিয়ে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশার ভ্রাম্যমান আদালত।

র‌্যাব-১ এর এএসপি আকরামুল হাসানের পরিচালনায় র‌্যাব সদস্যরা অভিযানে অংশ নেয়।

এ এইচ এম আনোয়ার পাশা বলেন, তোফাজ্জল হোসেন (৬০) নামে এক ব্যক্তি তার টিনশেড বাড়ীর একপাশে টিনের ছাপড়া তুলে গোবাদি পশুর ঔষধ তৈরীর কারখানা দিয়েছেন।

এ কারখানায় Bovi-vet-c3, Powerlyte, Power zyme, Rumen-T ইত্যাদি ঔষধসহ ১৯ ধরনের প্রিমিক্স তৈরী করছিলেন। এখানেই অত্যান্ত নোংরা পরিবেশে তৈরী করা হচ্ছিল Bovi-vet-c3 লেভেলে ঔষধটি।

কারখানায় টিনের ছাপড়ার দুটি কক্ষে ঔষধ তৈরীর বিভিন্ন কাঁচামালম মোড়ক, লেবেল একসাথে গাদাগাদি করে ফেলে রাখা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কেমিস্ট/ভেটেরিনারিয়ান এর তত্ত্বাবধানে ঔষধ তৈরী বাধ্যতামূলক হলেও মেহেদী হাসান নামের একজন অশিক্ষিত ব্যক্তি সমুদয় কাজ পরিচালনা করছিলেন।

কারখানায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই এবং মিক্সার মেশিনটিও নষ্ট। প্লাস্টিকের বালতিতে কাঁচামাল নিয়ে তাতে মিশিয়ে ঔষধ তৈরী করা হচ্ছিল। হাতে তৈরী এসব উপকরন প্যাকেটে ভরে হিট মেশিনের মাধ্যমে প্যাকেট সিল করে তাতে লেবেল লাগিয়ে তৈরী হচ্ছিল এসব ঔষধ।

নিয়ম অনুযায়ী কাঁচামাল ও উৎপন্ন পন্যের আলাদা সংরক্ষনাগার থাকতে হবে এবং কোন কাঁচামালের নাম কি তা কৌটার গায়ে লিখা থাকতে হবে।

তিনি জানান, অভিযুক্ত মেহেদী হাসান জানায় এক ব্যক্তি মাসে দুইএকবার এসে কোনটির সাথে কি মেশাতে হবে তা দেখিয়ে দিয়ে যায়। সে মোতাবেক সেই এসব ঔষধ তৈরী করে প্যাকিং করে। গত ছয় বছর যাবত এ কারখানা চলছে বলে তিনি জানান। মেহেদী হাসানকে দায়িত্ব দিয়ে কারখানার মালিক তোফাজ্জল গ্রামের বাড়ী বেড়াতে গেছে।

তিনি আরো জানান, অভিযানে চার ধরনের অবৈধ ঔষধ জব্দ করা হয় এবং কারখানা সিলগালা করা হয়। এছাড়া মেহেদী হাসানকে ১লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদন্ড প্রদান করে মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করার জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে।

জেইউ/এসএইচ