আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানেও থামছে না জাল নোট তৈরি। গতকাল সোমবার রাতে এই চক্রের সন্দেহভাজন ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে ওঠা চক্রটি চার-পাঁচ কোটি জাল টাকা বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনায় ছিল বলে দাবি পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি)।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিবি গত এক বছরে প্রায় ৫০ জনকে জাল টাকা তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। এর পরও এই চক্রটি সক্রিয়।
সোমবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে এই চক্রের সন্দেহভাজন ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।
ডিবির ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন শফিকুল ইসলাম, সোহাগ অধিকারী, সুমন আহমেদ, বায়েজিদ উদ্দিন, সিদ্দিকুর রহমান ও জেসমিন আক্তার।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে ডিবি। সেখানে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম দাবি করেন, চক্রটির প্রধান শফিকুল। তিনি ও তাঁর সহযোগীরা ছয়-সাত বছর ধরে এই কাজে জড়িত। এর আগে শফিকুল দুবার পুলিশের কাছে ধরা পড়েছিলেন। অল্পসময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে আবার পুরোনো পেশায় ফেরেন তিনি।
ডিবির দাবি, ঈদকে সামনে রেখে চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা প্রায় চার-পাঁচ কোটি জাল টাকা বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। তবে তাঁদের কাছ থেকে ছাপা-অর্ধ ছাপা মিলিয়ে ৫০ লাখ জাল টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) শেখ নাজমুল আলমের ভাষ্য, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জাল টাকা তৈরি করে আরেকটি চক্রকে দেয়। দ্বিতীয় চক্রটি আরেকটি চক্রকে জাল টাকা সরবরাহ করে। তৃতীয় চক্রটি জাল টাকা বাজারে ছাড়ে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা কার্যাদেশ সাপেক্ষে ভারতীয় রুপি, মার্কিন ডলার ও ইউরোর জাল নোট তৈরি করে দেয়ও বলেও দাবি করে ডিবি।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় মামলা হয়েছে বলে জানায় ডিবি।
জেআই





