মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক বাগেরহাটের আব্দুল লতিফ তালুকদার, খান আকরাম হোসেন ও সিরাজ মাস্টারের(কসাই সিরাজ) বিরুদ্ধে আগামী ২৫ আগস্ট চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

একইসঙ্গে লতিফ তালুকদারের জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২৮ আগস্ট দিন ধার্যল করেছে ট্রাইব্যুনাল।


বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যর বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালে লতিফ তালুকদারের জামিন বিষয়ে শুনানি করেন,ব্যারিস্টার এম.সারোয়ার হোসেন। অন্যদিকে প্রসিকিউটর হায়দার আলী আসামীদের বিরুদ্ধে শুনানি করেন। অপর দুই আসামীর পক্ষে কোন আইনজীবী এখনো নিয়োগ দেয়া হয়নি।

আজ ২০ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্যি ছিল।রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আগামী ২৫ আগস্ট দিন ধার্য্ করলেন।

গত ২৫ জুন আব্দুল লতিফ তালুকদারকে সেফ হোমে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্ত সংস্থা। এর আগে গত ১২ জুন আসামি আব্দুল লতিফকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে তার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

আব্দুল লতিফসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুন মঙ্গলবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। এ আদেশ মোতাবেক ১১ জুন বুধবার ভোরে বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের সোলারকোলা গ্রামের বাড়ি থেকে আব্দুল লতিফ তালুকদারকে (৭৫) গ্রেফতার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

গ্রেফতারকৃত আব্দুল লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শাঁখারীকাঠি বাজারে একসঙ্গে ৪২ জনকে হত্যা এবং ২০০ জনকে ধর্মান্তরের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এছাড়া আকরামের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে ২০ জুন শুক্রবার রাজশাহীর পবা উপজেলার ভূমি অফিস সংলগ্ন এলাকার এক আত্মীয় বাড়ি গ্রেফতার করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয় রাজশাহী পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শাঁখারীকাঠি বাজারে একসঙ্গে ৪২ জনকে হত্যা, বাজার লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া অপর আসামি সিরাজ মাস্টারকে গত ২১ জুলাই গ্রেফতার করে পুলিশ।

বাগেরহাটের সদর উপজেলার ডেমা গ্রামে তার চাচা শ্বশুর মৃত মোসলেম পাইকের পরিত্যক্ত খুপড়ি ঘর থেকে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

২০০৯ সালে নিমাই চন্দ্র দাস নামে স্থানীয় এক হিন্দু বাদী হয়ে আব্দুল লতিফ তালুকদার, আকরাম হোসেন, সিরাজ মাস্টারসহ ২০-৩০ জনের বিরুদ্ধে বাগেরহাটের আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি দায়ের করেন।

ঢাকা, কেএ, ২০ আগষ্ট, টাইমনিউজবিডি.কম