জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র জুবায়ের হত্যার ৪ আসামী বিশেষ আদালতের কাঠগড়া থেকে পলায়নের বিষয়টি এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি। পলায়নের এক দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে ছাত্র সমাজ, নিহতের পরিবার ও তার সহপাঠীরা চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
পলাতক ওই চার আসামি হলেন, খন্দকার আশিকুল ইসলাম আশিক, খান মোহাম্মদ রইছ, মাহবুব আকরাম ও ইসতিয়াক মেহবুব অরূপ।
রোববার জুবায়ের হত্যা মামলার এই চার আসামীকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল- ৪ এ হাজির করা হয়। কিন্তু আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করলে কাঠগড়া থেকে পালিয়ে যায় তারা।
একই দিনে ত্রিশালে কমান্ডো স্টাইলে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির তিন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিনতাই ও জুবায়ের হত্যা মামলার চার আসামি আদালতের কাঠগড়া থেকে পলায়নের ঘটনা ঘটে। একই দিনে দুই স্থানে আসামী পলায়নের ঘটনা এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি।
জঙ্গি সংগঠন জেএমবির আসামীরা পালিয়ে গেলেও তাদের আটক করতে সমর্থ হয়নি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। অপরদিকে জুবায়ের হত্যার আসামিরা পালিয়ে গেলেও তাদের কাউকে এখন পর্যন্ত আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এমনকি জঙ্গি নেতাদের পলায়নের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ কর্মকর্তাদের সাময়িক বহিস্কার করা হলেও জুবায়ের হত্যা মামলার আসামী পলায়নের ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কোনো পুলিশ সদস্যকে বহিস্কারও করা হয়নি।
তবে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা বলছেন দ্রুতই পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আইশা সিদ্দিকা জানান, পলাতকদের ধরতে আইন শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
নিহত জুবায়েরের সহপাঠীরা অভিযোগ করে টাইম নিউজবিডিকে জানান, একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিরা আদালতের কাঠগড়া থেকে যেভাবে পালালো তা মেনে নেওয়া যায় না।
একটি হত্যা মামলার আসামিরা কোর্টের হাজিরার সময় সেখানে কোন পুলিশ সদস্য থাকবে না এটা কীভাবে সম্ভব! সচেতন মানুষ মাত্রই স্পষ্ট করেছে যে ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। আসামীদের পলায়নের ক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাত অবশ্যই রয়েছে বলেও দাবি তাদের।
জুবায়েরের এক বিভাগীয় শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে জানান, একই দিনে জঙ্গি সদস্যরা পালিয়েছে। তাদের পলায়নের পদ্ধতিও ছিল উগ্র। কিন্তু আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাতের মধ্যে তাদের সবাইকে আটক করতে সমর্থ হয়।
অথচ একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী হত্যার আসামী আদালতের কাঠগড়া থেকে নির্বিঘ্নে পালিয়ে গেলেও তাদের এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ। আসামীদের পলায়নই স্পষ্ট করে যে, পুলিশী নিরাপত্তা যথাযথ ছিলনা। এর দ্বারা আদালতের অসম্মান করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশের ভূমিকাও মারাত্মক প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকালে ট্রাইব্যুনাল-৪ আদালতে জুবায়ের হত্যার মামলার জামিন শুনানি চলছিলো। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে দেয়।
শুনানি চলাকালে পুরো সময়েই আদালতে কোন পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় নি বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। জামিন বাতিল হওয়া পর আসামিরা কাঠগড়ার নিচে একটি ফাঁকা জায়গা দিয়ে বের হয়ে যায়।
ঘটনার প্রায় ২৫ মিনিট পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের সংশ্লিষ্টরা আসামি পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
আসামিদের পলায়ন ঘটনার দিন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এস এম রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, জামিন বাতিলের আদেশ হওয়ার পরপরই আসামিদের কাঠগড়ার নিচে থাকা এটি ফাঁকা জায়গা দিয়ে তারা বেরিয়ে চলে যায়।
রোববার এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। এই দিন গুলশান থানার তৎকালীন এসআই হুমায়ুন কবির ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন।
জবানবন্দি প্রদানের পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা করেন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৭শে ফেব্রুয়ারি তারিখ ধার্য করে। এ মামলায় গত ৮ই সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়।
২০১২ সালের ৮ই জানুয়ারি বিকেলে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। পরদিন ভোরে রাজধানী একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জুবায়ের।
এঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হামিদুর রহমান বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিদের মধ্যে মাহবুব আকরাম ও নাজমুস সাকিব ওরফে তপু ২০১২ সালের ১৫ই জানুয়ারি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
গত বছরের ৮ই এপ্রিল ঘটনাটি তদন্ত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই মীর শাহীন শাহ পারভেজ ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে এ বিষয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
[b]ঢাকা, জেইউ, ২৪ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ[/b]
অপরাধ
কাঠগড়া থেকে আসামী পলায়ন; টক অব দ্যা কান্ট্রি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র জুবায়ের হত্যার ৪ আসামী বিশেষ আদালতের কাঠগড়া থেকে পলায়নের বিষয়টি এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি। পলায়নের এক দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে ছাত্র সমাজ, নিহতের পরিবার ও তার সহপাঠীরা চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন





