শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার গড়ে তোলার মাধ্যমে সংগঠনকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বি করতে পরিকল্পনা করছে জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ভারপ্রাপ্ত আমীরসহ আটককৃত ৭ জেএমবি সদস্যকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাদের পর এসব তথ্য জানা গেছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, জেএমবি অর্থসংকট লাঘব ও সংগঠনকে শক্তিশালী করতে রাজধানীর উত্তরার জসিমউদ্দিন রোডে একটি কলেজ ও কোচিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য জমি ক্রয়েরও চেষ্টা করে আসছিল।

এছাড়া সূত্রটি আরও জানায়, আন্তর্জাতিকভাবে যেসব এনজিও জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অর্থসহায়তা করে আসছে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য দেশে বড় ধরণের নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের।

এই কারণে তারা বাংলাদেশ বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক জঙ্গি সংগঠন (ইসলামিক স্টেট) এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। যুক্তরাজ্যে উগ্র মতাদর্শী প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাধ্যমে জেএমবি এই চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, জেএমবি ফান্ড কালেকশনের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চেয়েছিল। উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠনগুলোর নজরে আসতে ও বিশ্ব মিডিয়ায় পরিচিতি লাভের জন্য তারা দেশের অভ্যন্তরে বড় ধরণের নাশকতাও পরিকল্পনা করে ছিল।

এছাড়া তারা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মতো সমমনা অন্য সব ঝিমিয়ে পড়া উগ্র জঙ্গি সংগঠনগুলোকে একই প্লাটফর্মে নিয়ে আসার জন্য নানামুখি তৎপরতা চালিয়ে আসছিল।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, জেএমবি ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমসহ অন্যান্য উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠনের যেসব নেতা বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হয়ে জেলে রয়েছেন তারা জেলে বসে নিজেদের মধ্যে আন্ত:সম্পর্ক স্থাপন করেছে। তারা জেলে বসেই দলকে পুর্ণসংগঠিত ও চাঙ্গা করার জন্য ছক একে যাচ্ছেন।

জেল থেকে যারা জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন তাদের মা্ধ্যমে মূলত এই পরিকল্পনাগুলো সংগঠনের অন্যকর্মীদের কাছে পৌছে দেয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো জানার জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোক ঢোকানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আরও বলেন, জেএমবি বিস্ফোরক তৈরি ও বোমা হামলায় পারদর্শি। অন্যদিকে ক্ষিপ্রতা ও কৌশলে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এগিয়ে। ইতোমধ্যে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম জেএমবিকে মটিভেট করার চেষ্টা করছে একীভূত হবার জন্য।

তিনি বলেন, এই ‍দুটি সংগঠনের মাধ্যমে যদি জঙ্গি সংগঠনগুলো একই প্লাটফর্মে আসতে পারে তবে তাদের বড় ধরণের নাশকতা চালানোর মতো ক্ষমতা অর্জন করবে। তবে গোয়েন্দা বাহিনী সোচ্চার রয়েছে। কোনো ভাবেই তাদের এই তৎপরতা চালাতে দেয়া হবে না। এজন্য নিয়মিত অভিযান চলছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা, জেইউ, ২১ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর