ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে সুকুমার নামের এক বহিরাগতকে অপহরণ করে মুক্তিপণের দাবিতে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সুকুমার অপহরণকারী উদয় সাহা ও জনি পালের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা (মামলা নং- ৩১) করেছেন।
অভিযুক্ত জনি পাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত কর্মচারী এবং উদয় সাহা শিক্ষার্থী না হয়েও প্রভাবশালী এক ছাত্রলীগ নেতার আশ্রয়ে হলে অবস্থান করে আসছে।
শাহবাগ থানা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, সুকুমার রাজধানীর উত্তর শ্যামলীর বাসিন্দা। জগন্নাথ হলের মাঠে তিনি বুধবার বিকালে খেলতে যান। এ সময় তাকে অপহরণ করে। কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও ২৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তবে তার কাছে কত টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় তা তিনি উল্লেখ করেননি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম আমজাদ আলী বলেন, ঘটনাটি সত্যিকার অর্থেই অপহরণ না কি অন্য কিছু সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। তবে একজনকে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করেছি।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে এবং অপহৃতের বক্তব্য শুনে আমাদের মনে হয়েছে, মাদক সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে ওই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, অপহরণের সঙ্গে জড়িত জনি পাল বহিষ্কৃত কর্মচারী এবং উদয় সাহা ঢাবির ছাত্র নয়। অপহৃত যদি মামলা করে তাহলে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেবে। তাছাড়া উদয় সাহা বহিরাগত হয়েও হলে থাকার অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে পেলেই পুলিশে দিবে বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, মুক্তিপণের দাবিতে তাকে মারধর করা হয়। বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম আমজাদ আলীসহ প্রক্টরিয়াল টিম এবং পুলিশ জগন্নাথ হলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) নেওয়া হয়।
ঢামেক প্রতিবেদক জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সুকুমার হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জগন্নাথ হলের এক কর্মকর্তা জানান, জনির মাধ্যমে উদয়ের সাথে সুকুমারের পরিচয়। এ ঘটনার আগেই জনিকে শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় হল থেকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জগন্নাথ হল প্রশাসন। তবে জনি জগন্নাথ হলে আসতেন, তার সাথে সুকুমারও প্রায়ই উদয়ের কাছে আসতেন। হলে একটি মাদকের সিন্ডিকেট তারা নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে জানায় সূত্রটি।
এএইচ





