ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়ানে গরি অসহায় সাধারন মানুষের আবাদকৃত কৃষিজমি দখল করে ভূমি দস্যুরা অবৈধ ভাবে গড়ে তুলেছে দালাল ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা।
এর ফলে ঐ এলাকার কৃষি জমি ্ও পরিবেশ এখন হুমকীর মুখে পরেছে।
এ ব্যাপারে দখলকৃত জমির উপর মাটি না কাটাসহ সকল প্রকার কার্যক্রমের উপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেনা দালাল ব্রিকস্ এর মালিক।
এমনকি অবৈধ এই ইটভাটার বন্ধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে সাধারন কৃষি জমির মালিকরা ইটভাটা মালিকদের হামলা মামলার ভয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছে।
সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯২ সালের পরিবেশঅইন অনুযায়ী ,কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন এবং কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ।
এছাড়া ১২০ মিটার উচ্চতার চিমনি ব্যবহার করার বিধান রয়েছে আইনে। কিন্তু পরিবেশ অধিদফতরের আইনকে অমান্য করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে আবাদকৃত জম্ওিজনবসতি এলাকায় ঘরে উঠেছে দালাল ব্রিকস।
যেখানে পরিবেশ আইনে বলা আছে যে আবাসিক ও কৃষি জমিতে ইটভাটা গড়ে তোলা যাবেনা সেখানে দালাল ব্রিকস এর মালিক আব্দুল হালিম নাগর মিয়া তার ২শতাংশ জায়গার উপরে ইটভাটার নিমার্নের কাজ শুরু করে।
পরে স্থানীয় কিছু অসাধু জমির দালালকে ম্যানেজ করে স্থানীয় গরিবও সহজ-সরল লোকদের বিভিন্ন প্রলভন দেখিয়ে ১ বছরের জন্য জমি ইজারা নেয়ার কথা বলে অবৈধ ভাবে কৃষি জমি দখল করে নেয়।
বর্তমানে নাগর মিয়ার ছেলে মিহীর ব্রিক ফিল্ডটি পরিচালনা করে আসছে। তার নেতৃত্বে ইটভাটায় স্বমিল বসিয়ে বিভিন্ন গাছকেটে কাঠপুড়িয়ে ইটতৈরি করছে।
শুধু তাই নয় স্থানীয় কৃষকদের ফসলি জমি দখল করে জোর পূর্বক মাটিকেটে ইটভাটায় ব্যাবহার করা হচ্ছে। আর ইটপোড়ানের ফলে আবাদি জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এতে সাধারন জমির মালিকরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে মিহীর তাদের কে মারধর করছে। এমনি বিভিন্ন মামলা হামলার ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করে পুরো কৃষি জমি দখল করার পায়তারা করছে।
এ ব্যাপারে জমির মালিক শাহানাজ বেগম জানান, আমার কাছে থেকে ৪ কড়া জমি জোর করে নিয়েগেছে । ঐ জমির বদলে অন্য জমি দিবে বলে ৩ বছর পর্যন্ত ঘুরা ঘুরি করছে। একই অভিযোগ করেন, মজুফা বেগম,আব্দুল সঈদ,মরিয়ম বিবি।
মজুফা বেগমের ছেলে ইব্রাহিম জমি চাইতে গেলে তাকে ব্যাপক মারধর করে। জমির অপর মালিক মো:রিয়াজ উদ্দিন জানান,বিভিন্ন এনজ্ওি থেকে ঋন নিয়ে আমার শতাংশ জমিতে ধান করছি অবৈধ এই ইটভাটায় ইট পোরানের ফলে আমার ধানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এরফলে আমার পরিবার নিয়ে এখন না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি।
এ ব্যাপরে আবুল কাশেম গং বাদী হয়ে দুই একর ৩৮ শতাংশ জমির স্বত্ব দখল নিয়ে ভোলা বোরহানউদ্দিন সহকারি জজ আদালতে ৫/৪/১৫ তারিখে ওই ব্রিক ফিল্ডের মালিক আবদুল হালিম নাগর মিয়া গংদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলা নং ২৩/২০১৫।
গত ৬ এপ্রিল আদালতের বিচারক মোঃ জাকির হোসেন ওই জমির উপর স্থিতিবস্থা জারি করেন বলে জানান বাদীর আইনজীবী নুরুল আমিন নুরনবী (জিপি)।
কিন্তু আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বিরোধীয় জমি থেকে আবদুল হালিম নাগর মিয়া গং মাটি কেটে ইট তৈরী করছে।
অপর দিকে আবুল কাশেম গংদেও জমি ছাড়াও পাশ্ববর্তী মেসার্স মোল্লা ব্রিকর্স এর মালিক মোঃ রাসেল মোল্লার জমির মাটি অবৈধ ভাবে কেটে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে রাসেল মোল্লা বোরহান উদ্দিন থানায় লিখিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে পরির্দশন করে সত্যতা পায়। পরবর্তীতে আবদুল হালিম নাগর মিয়া ও তার ছেলে মিহিরকে বোরহান উদ্দিন থানায় উভয় পক্ষকে ডাকা হয়।
এ সময় মিহির কেটে নেয়া মাটি ভরাট করে দিবে বললেও তা আজও দেয়নি।
ব্রিক ফিল্ডের মালিকের ছেলের সাথে যোগাযোগ করলে সাংবাদিকদের জানান, তার এই ইট ভাটা ৪৫০ শতাংশ জমির উপরে। তাদের কিনা ৭৫ শতাংশ। ১৮০ শতাংশ পৈত্রিক সম্পত্তি। আর বাকী জমি মৌখিক ভাবে বদল করে নিয়েছি। তিনি আরো জানান,মামলা হওয়ার পর কোন ইট কাটেন নি।
এ ব্যাপারে ভোলা জেলা প্রশাসক মোঃ সেলিম রেজা বলেন, মোবাইল কের্টের মাধ্যমে অবৈধ ইট ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসএইচ





