বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রাক্তন আট ব্যবস্থাপকসহ (ম্যানেজার) ২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ব্যবসায়ী ওয়াহিদুর রহমানকে তিনটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ পাইয়ে দিযে কৃষি ব্যাংকের বনানী শাখা থেকে ১৫২ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় তাদের তলব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুদকের উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলী স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে তাদের তলব করা হয়েছে। দুদকের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কৃষিব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সময় বিভিন্ন শাখার আট ব্যবস্থাপকসহ তলবকৃত ব্যাংক কর্মকর্তারা ওই সময় মূল্যায়ণ কমিটির সদস্য ছিলেন। তাদের ঘটনার সময়ের পদ অনুসারে তলব করা হয়েছে বলে দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে।

২১ এপ্রিল যাদের তলব করা হয়েছে তারা হলেন- বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, মিরপুর শাখার প্রাক্তন ব্যবস্থাপক মিসেস রোকেয়া বেগম, চকবাজার শাখার প্রাক্তন ব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সোবহান, নন্দীপুর বাজার শাখার প্রাক্তন ব্যবস্থাপক মো. দিদারুল আলম, গাজীপুরের জয়দেবপুর শাখার প্রাক্তন ব্যববস্থাপক নিখিল রঞ্জন ভৌমিক ও সফিপুর শাখার প্রাক্তন ব্যবস্থাপক মো. আফছার উদ্দিন।

২২ এপ্রিল যাদের তলব করা হয়েছে তারা হলেন- কৃষি ব্যাংকের বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা এ কে এম ফেরদৌস আলম, ঢাকার আশুলিয়া শাখার প্রাক্তন ব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী, উত্তরা শাখার প্রাক্তন শাখার মো. আলী আশরাফ ও যশোর জেলার প্রধান শাখার প্রাক্তন ব্যবস্থাপক প্রনীল কুমার মণ্ডল।

২৩ এপ্রিল বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যাংক গ্যারান্টারদের তলব করা হয়েছে। এরা হলেন, রাজধানীর ইস্কাটনের বাসিন্দা মিসেস আসমা খাতুন, দিলু রোডের বাসিন্দা গোলাম কাদির, একই এলাকার বাসিন্দা গোলাম ফারুক, গোলাম হাবিব, গোলাম নবী, গোলাম গাউস, মিসেস রওশন আরা বেগম, গোলাম মোহাম্মদ, গোলাম কবির, রাজধানীর গুলশান রোডের বাসিন্দা খন্দকার মেহমুদ আলম নাদিম এবং মনিরা মুন্নী।

দুদক সূত্র জানায়, ওয়াহিদুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দেশের চারটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে ওই ব্যাংক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর মধ্যে কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে অর্থের সম্পৃক্ততা ১৫২ কোটি টাকা।

সূত্র আরো জানায়, ব্যবসায়ী ওয়াহিদুর রহমান বিভিন্ন সময় দেশের চারটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নামে-বেনামে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

এর মধ্যে বেসিক ব্যাংক থেকে ৭৬৭ কোটি টাকা, ইসলামিক আইসিবি ব্যাংক থেকে ১০০ কোটি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ১৫২ কোটি, সিটি ব্যাংক থেকে ছয় কোটি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর বেশিরভাগ টাকাই তিনি ঋণ নিয়েছেন ভুয়া ও বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে। ব্যাংকের ঋণের নথিতে উল্লিখিত ঠিকানার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন সময়ের অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে আসলে পরবর্তী সময়ে দুদক তা আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক প্রতিবেদনে এসব ঋণ আদায় হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করা হয়েছে ।

কেএইচ