বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডি খাজা সোলেমান চৌধুরী ও তার স্ত্রী এবং চেয়ারম্যান নওরীন হাবিবসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের এক মামলায় চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কমিশনের এক সভায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪ (২) (৩) ধারায় আদালতে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ অনুমোদনের ফলে যে কোনো দিন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় আসামিদের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা সহকারি পরিচালক গোলশান আনোয়ার চার্জশিট দাখিল করতে পারেন।

জানা যায়,২০১৩ সালে ৩ নভেম্বর বিসমিল্লাহ গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা কয়েকটি ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদক মতিঝিল থানায় পৃথক ১২টি মামলা দায়ের করে।

আজ বৃহস্পতিবার কমিশন ওই ১২ মামলার মধ্যে থেকে ৬ নং মামলার ১৬ আসামির ২জনকে বাদ দিয়ে ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিটের অনুমোদন দিয়েছে দুদক।এ মামলায় ৫৮ কোটি টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে পাচারের অভিযোগে চার্জশিট অনুমোদন দেয়া হয়।

আর চার্জশিটভুক্ত ১৪ আসামি হলেন; বিসমিল্লাহ গ্রুপের মালিক ও মেসার্স আলফা কম্পোজিট টাওয়াল লিমিটেডের এমডি খাজা সোলেমান চৌধুরী, (প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান) তার স্ত্রী নওরীন হাবিব, তার পিতা (পরিচালক) সফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, বিসমিল্লাহ গ্রুপের ডিএমডি আকবর আজিজ মুতাক্কি, জিএম মো. আবুল হোসাইন চৌধুরী, ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ,

নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন, বে ইয়ার্ন লিমিটেডের মালিক গোলাম মহিউদ্দিন আহম্মেদ,

প্রিমিয়ার ব্যাংক লি.মতিঝিল শাখার সাবেক ম্যানেজার মুহাম্মদ শাহিনুর রহমান, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জি. এম শাহাদৎ হোসেন, এফএভিপি এম এ রহীম, ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহবুদ্দিন সরদার, এফএভিপি ও সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মো. তানজিবুল আলম, সাবেক এক্সিকিউটিভ অফিসার আবু সালেহ মো. আরিফুর রহমান।

তবে এ মামলার এফআইরভুক্ত ২ আসামি ও মেসার্স টি ডব্লিউ এক্সপ্রেসের মালিক তাবাসসুম তারিক হাসান এবং মো. মঈন উদ্দিনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান ৬ নং মামলাটির তদন্ত করেন।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিসমিল্লাহ গ্রুপের ১৩ জন শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা দায়ের করে করে দুদক।

২০১৩ সালে বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ অনুসন্ধান দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ ইকবালের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি বিশেষ টিম।

পরে ওই বছর ৩ নভেম্বর দুদক টিম রাজধানীর ৫৩ জনের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানা ২টি, মতিঝিল থানায় ৯টি এবং নিউমার্কেট থানায় ১টিসহ মোট ১২টি মামলা দায়ের করেন।

এই গ্রুপের এমপড খাজা সোলাইমান নিজেই ক্রেতা, নিজেই বিক্রেতা হয়ে এই অর্থ লোপাট করেছেন। এর মধ্যে ফান্ডেড ৯৯০ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং নন-ফান্ডেড ১৮৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।
দুদকের ১২ মামলায় ৫৩ আসামির মধ্যে ৪০ জন আসামি হলেন; জনতা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা।

বিসমিল্লাহ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে: মেসার্স হিন্দল ওয়ালী টেক্সটাইল মিলস লি.নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেম লি., বে ইয়ার্ন লি.,বিসমির্লাহ টাওয়েল ইত্যাদি ।

একে