শেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহম্মদ (সা.) এবং হজ নিয়ে কটূক্তি করা ধর্মীয় অনুভূতিতে সুস্পষ্ট আঘাত। বাংলাদেশে দণ্ডবিধির ২৯৫-ক ধারা অনুযায়ী এই অপরাধে একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী শেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এবং হজ নিয়ে যে কটূক্তি করেছেন, তা ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে সুস্পষ্ট আঘাত’ অপরাধের আওতায় পড়বে বলে আইজীবীরা জানিয়েছেন। ফলে এই বক্তব্যের কারণে তিনি সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
দণ্ডবিধির ২৯৫-ক ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বা বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে কোনো কথা বা লিখিত শব্দের মাধ্যমে বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেন অথবা দৃশ্যমান কোনো উপস্থাপনার মাধ্যমে ধর্ম বা কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীকে অপমান করেন বা অপমান করার প্রয়াস চালান, তাহলে তিনি সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
আইনানুযায়ী লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবীরা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন দ্য রিপোর্টকে বলেন, দণ্ডবিধি অনুসারে লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য অবশ্যই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল। এ জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে।
খন্দকার মাহবুব বলেন, যে কেউ ইচ্ছা করলেই তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন এবং দণ্ডবিধি অনুযায়ী তিনি সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা বা ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মামলা করব কেন? তবে কেউ যদি মামলা করেন এবং আমাদের সহযোগিতা চান, তাহলে আমরা তাকে সকল প্রকার সহযোগিতা করব।’
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য অবশ্যই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মতো।
এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ মামলা করলে তা আদালত গ্রহণ করবেন এবং তা চলবে। এখন কথা হলো- তার বিরুদ্ধে কেউ মামলা করেন কি-না।
প্রসঙ্গত, নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে গত রবিবার বিকেলে প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে লতিফ সিদ্দিকী হযরত মুহম্মদ (সা.) ও হজ নিয়ে কটূক্তি করে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামীর যত বিরোধী, তার চাইতেও হজের ও তবলিগের বিরোধী। কত ম্যান পাওয়ার নষ্ট হয় তোমরা বিবেচনা করে দেখ। হজের জন্য ২০ লাখ মানুষ আজ সৌদিতে গেছে। এদের কোনো কাম নাই। এরা কোনো প্রডাকশনও দিচ্ছে না। শুধু ডিডাকশন করছে, শুধু খাচ্ছে। দেশের টাকা নিয়ে গিয়ে ওদের দিচ্ছে। আব্দুল্লাহপুত্র মুহম্মদ (সা.) কোরাইশদের আর্থিক সুবিধার জন্য হজ উৎসব চালু করেন।’
লতিফ সিদ্দিকীর এমন বক্তব্যের ফলে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ।
সূত্র: দ্য রিপোর্ট
ঢাকা, ১ অক্টোবর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ





