রাজধানীর কলাবাগানে মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও লেভেলে’র শিক্ষার্থী আনুশকা নূর আমিনকে ‘ধর্ষণের পর হত্যার’ অভিযোগে গ্রেফতার ইফতেখার ফারদিন দিহান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
শুক্রবার (০৮ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদের আদালত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে দিহানকে কারাগারে পাঠানোর জন্য আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক আ ফ ম আসাদুজ্জামান আসামি দিহানকে আদালতে হাজির করে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আবেদন করেন। পরে দিহান সেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (০৭ জানুয়ারি) রাতে কলাবাগান থানায় ধর্ষণ ও হত্যার করার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯-এর ২ ধারায় খুনসহ ধর্ষণ মামলা করেছেন মেয়েটির বাবা মো: আল-আমিন। এছাড়া এই ঘটনায় আটক অন্য তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল (০৭ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার দুপুরে কলাবাগানের ডলফিন গলিতে দিহানের বাসায় এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে দিহানসহ চার বন্ধু ওই তরুণীকে ধানমন্ডির মডার্ন আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে বিকালে হাসপাতালে মেয়েটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
ডিএমপির রমনা বিভাগের নিউ মার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার আবুল হাসান বলেন, “নিহত কিশোরীর বাবা আল-আমিন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। শুধু ইফতেখার ফারদিন দিহানকেই এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাকে আমরা গতকালই আটক করেছি। এখন এই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আর বাকি তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। তাদের ডিজিটাল ডিভাইসগুলো আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছি।”
আবুল হাসান বলেন, “প্রাথমিকভাবে দিহান মেয়েটিকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলেছে বলে আমাদের কাছে স্বীকার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে মেয়েটির শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। দিহানের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া আলামতে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দিহানকে আমরা আজই আদালতে তুলবো। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েক দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে, সেটা নিয়েই আলোচনা চলছে।”
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারদিন ইফতেখার দিহান বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে স্কুলছাত্রী আনুশকাকে প্রেমে প্রলুব্ধ করে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর ৬৩/৪ লেক সার্কাস ডলফিন গলি পান্থপথ কলাবাগানের ফাঁকা বাসায় মেয়েটিকে একা পেয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণণে রক্তক্ষরণের কারণে মেয়েটি অচেতন পড়ে। তখন বিবাদী ধর্ষণের বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য মেয়েটিকে নিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যায়। সেখানে ভিকটিমের মৃত্যু হয়। সংবাদ পেয়ে কলাবাগান থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত হাসপাতালে যায়।
খবর পেয়ে আনুশকার তিন বন্ধু হাসপাতালে গেলে পুলিশ তাদেরও আটক করে পুলিশ। পরে চার জনকে কলাবাগান থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ পরে স্কুলছাত্রীর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়।
এমবি





