রাজধানীর কদমতলীর একটি অবৈধ হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ভূয়া ডাক্তার দম্পতিসহ ৪ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছে র‌্যাব পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত।

রোববার দুপুর ১২ টায় কদমতলীর রায়েরবাগ ১৭০, সালেমা হাসপাতাল এন্ড ল্যাব-এ অভিযান চালানো হয়। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, প্রতিষ্ঠানের মালিক এসএম রবিউল আউয়াল (৪৩) এবং তার স্ত্রী মমতাজ বেগম (৩৬), সোনিয়া আক্তার (২২) ও লুৎফুন নাহার (২৮)।

রবিউল আউয়াল ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগমকে ২ বছর কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, জরিমান অনাদায়ী ৩ মাস কারাদন্ড। সোনিয়া আক্তার ও লুৎফুন নাহার ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, জরিমান অনাদায়ী ৩ মাস কারাদণ্ড।

র‌্যাব-১০ এর অভিযান পরিচালনা করেন মেজর তৌফিকুল বারী। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ডাক্তার স্বপন কুমার তপাদার।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা বলেন, প্রতিষ্ঠানের কোন লাইসেন্স নাই। ভূয়া ডাক্তার সেজে তারা রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এখানকার সকল নার্স ও টেকনিশিয়ান ভূয়া।

পরীক্ষার রিপোর্টে ডাক্তারের সীল মেরে নিজেরাই স্বাক্ষর করছিল। অভিযানের সময় দেখা যায় ভূয়া ডাক্তার রবিউল তার চেম্বারে সিজারের রোগী হোসনে আরার পেটের ড্রেসিং করছিলেন।

হোসনে আরার স্বামী খোরশেদ জানান, গত ৬ ডিসেম্বর এই হাসপাতালে সিজার করে এবং অদ্য সেলাই কাটতে এসেছেন। রবিউল এ সময় উক্ত রোগীর চিকিৎসা করছিলেন। হোসনে আরা পেটে বর্তমানে ইনফেকশন হয়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, তারা মাতোয়াইল শিশু হাসপাতালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। সেখান থেকে দালালগণ তাকে এই ভূয়া হাসপাতালে নিয়ে আসে। পারভেজ হোসেন দিপু (১৬) নামে এক রোগীর হাতে ব্যথা নিয়ে এ হাসপাতালে আসেন।

রবিউল এবং তার সঙ্গীরা তার চিকিৎসা করে হাতে ব্যান্ডেজ ও প্লাষ্টার করে দেয়।

এছাড়া এসময় আকলিমা বেগম, নূর নাহার রুপা, জেসমিন আক্তার এবং ফাতেমা বেগমসহ আরো ১০ (দশ) জন রোগী ছিল। যাদের অধিকাংশই সন্তান সম্ভবা।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা জানান, হাসপাতালে ২৭ টি বেড রয়েছে।

আইন অনুযায়ী প্রতিটি সিফটে ৩ জন ডাক্তার এবং ৬ জন নার্স সার্বক্ষনিক থাকা বাধ্যতামূলক হলেও রবিউল ও তার স্ত্রী মমতাজ সার্বক্ষনিক ডাক্তারের কাজ করেন।

তারা ডাক্তারী বিষয় কখনোই পড়াশোনা করেন নাই বলে জানান। তার স্ত্রী অন্য হাসপাতালে নার্স এর কাজ শিখেছেন বলে জানান।

সোনিয়া আক্তার (২২) নামে একজন নার্স কাজ করেছিল যার কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। এছাড়া লুৎফুন নাহার (২৮) তাদের সহযোগী হিসেবে প্রতারণা করেছিল।

র‌্যাব-১০ এর মেজর তৌফিকুল বারী জানান, এই এলাকায় যেসব অবৈধ হাসপাতাল রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জেইউ/এসএইচ