রাজশাহীতে ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়ে এক নারীকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর আইডি বাগানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম মাবিয়া বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার দিনমজুর ভিকু মিয়ার স্ত্রী।
সন্ধ্যায় নিহত নারীর লাশ উদ্ধার করেছে রাজশাহী রেলওয়ে থানা পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন।নিহত নারীর ভাই লিটন আলী জানান, ছেলের নানী শ্বাশুড়ি জরিনা বেগমের সঙ্গে মাবিয়া বেগমের দ্বন্দ্ব ছিল।
মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করার কারণে এ দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। কয়েকদিন আগে জরিনার বাড়ি থেকে হেরোইন উদ্ধার করে পুলিশ। জরিনা মনে করেন, মাবিয়া তার এই মাদক ধরিয়ে দিয়েছেন।
শুক্রবার বিকেলে বাড়ির সামনে তাদের মধ্যে এ নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়। এ সময় বাড়ির সামনের রেললাইন দিয়ে রাজশাহী থেকে একটি কমিউটার ট্রেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। ট্রেনটি কাছাকাছি এলে জরিনা বেগম ও তার মেয়ে নাজমা মাবিয়াকে রেললাইনের দিকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম ও মামুন আলী দাবি করেন, তাদের চোখের সামনেই ঘটেছে এমন ঘটনা। তারা জানান, পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় মাবিয়া ও জরিনার মাঝে প্রায়ই ঝগড়া হতো। বাড়িতে পুলিশ হানা দিলেই জরিনা দুষতেন মাবিয়াকে। জরিনা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার স্বামীর নাম সম্রাট আলী।
সন্ধ্যায় আইডি বাগানপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মাবিয়ার পড়ে থাকা লাশ ঘিরে জরিনাকে গ্রেফতার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, মাঝে মাঝেই পুলিশ জরিনাকে গ্রেফতার করে।
তবে প্রতিবারই তিনি জামিনে বেরিয়ে এসে জড়িয়ে পড়েন পুরনো কারবারে। বিকেলে জরিনা ও তার মেয়েসহ কয়েকজন মাবিয়াকে ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়েই তারা পালিয়ে গেছেন।
জানতে চাইলে নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, ট্রেনে কাটা পড়ে এক নারী মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তাকে ট্রেনের নিচে ধাক্কা দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জেনেছেন। তবে ঘটনাস্থল রেললাইনে হওয়ায় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে রেল পুলিশ।
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন বলেন, তারা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেছেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হলে তাও গ্রহণ করা হবে।
এমএ





