মহাজোট সরকারের সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহাবুবুর রহমানের স্ত্রী প্রীতি হায়দারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলার দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার সকালে কমিশনের এক সভায় দুদকের উপ পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহম্মেদ পাটোয়ারীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আমলে নিয়ে প্রীতি হায়দারের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার চাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে মামলার অনুমোদন পাওয়ার পরই বিকেলে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-১৩।

এবিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা  ও উপ পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

তিনি বলেন যে কোনো সময় রমনা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করবেন অনুসন্ধানী কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী।

তদন্ত কর্মকর্তা গত ৬ নভেম্বর দুদকে ডেকে আসামি প্রীতি হায়দারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জানা যায়, সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী পটুয়াখালী-৪’র  বর্তমান এমপি মাহাবুবুর রহমান এবং তার স্ত্রী প্রীতি হায়দারের  ৫ বছরের ব্যবধানে কৃষি জমি  ২০ একর থেকে ২ হাজার ৮৬৫ একর হয়েছেন।

এছাড়া ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তার বার্ষিক আয় ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তার স্ত্রী প্রীতি হায়দারের  জমি বেড়েছে কয়েক’শ বিঘা। তার  আন্ধার মানিক ও গঙ্গামতি নামে দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

গত বছর  ২১ আগস্ট মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে দুদক  রমনা মডেল থানায় ৫ কোটি ১৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অর্থাৎ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

বর্তমানে ওই  মামলাটি তদন্ত  করছেন উপ পরিচালক করছেন ফরিদ আহম্মেদ পাটোয়ারি।

জানা যায়,  আসামি মাহবুবুর রহমান এমপি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার উৎস দেখিয়েছেন মৎস্য চাষ লব্ধ আয়। অথচ তার কোনো মৎস্য খামার কিংবা ঘের নেই।

মাহবুবুর রহমান এমপি কলাপাড়ার আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদার নামক আরেক ব্যক্তিকে দেড় কোটি টাকা দেন জমি কেনার জন্য। এ অর্থ তিনি কোথায় পেয়েছেন তার  উৎস আয়কর বিবরণী, নির্বাচনী হলফনামা এমনকি দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করেননি।

এছাড়া আারো বিভিন্ন বিষয়ে তলবিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অরো একজনকে ৫০ লাখ টাকা ঋণ দেন তিনি।

একে/এসএইচ