ইউনাইটেড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রহমান খান’সহ দুই জনের বিরুদ্ধে সাড়ে ২১ কোটি টাকার কর ফাকিঁর অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় অপর আসামি হলেন- অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কমিশনার রহিমা বেগম।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রাজধানীর গুলশান থানায় দুদকের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব ভট্টাচার্য্য বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ২১ কোটি ৪৪ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৩ টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অনুসন্ধান টিম অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র অনুসারে ২০০৬ সালের ২৪ আগস্টে গুলশান-২ আবাসিক এলাকায় (প্লট নং-১৫, রোড নং-৭১) ৮তলা ভবনের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়। কিন্তু ভবনটিতে কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল নামে কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে মালিকানা ও নাম পরিবর্তন হয়ে ইউনাইটেড হাসপাতাল লিমিটেডের কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু ঢাকা সিটি করপোরেশনের তালিকায় এখনও আগের নামই বহাল রয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০০৬ সাল থেকে হাসপাতালটির ত্রৈমাসিক হোল্ডিং ট্যাক্স ৮৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৯০ টাকা নির্ধারণ করে ২০০৭ সালের ২৬ আগস্ট নোটিস দেয় ঢাকা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা পরিশোধ না করে সিটি করপোরেশনের অ্যাসেসমেন্ট রিভিউ বোর্ডে (এআরবি) আবেদন করে। সে সময় চার সদস্যের ওই বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন- সিটি করপোরেশন ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কমিশনার এম এ কাইয়ুম। সদস্য হিসেবে ছিলেন- কমিশনার রহিমা বেগম, প্রকৌশলী কাজী জহিরুল আজম ও অ্যাভোকেট মালেক মোল্লা।
মামলার এজাহারে বলা হয়, এআরবি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অপর দু’জন সদস্যের অনুপস্থিতিতে রহিমা বেগম এককভাবে ২০০৯ সালে ইউনাইটেড হাসপাতালের ত্রৈমাসিক কর কমিয়ে ৭৪ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫০ টানায় পুনঃনির্ধারণ করেন। এতে ইউনাইটেড হাসপাতাল লিমিটেডের ত্রৈমাসিক কর ১৩ লাখ ২২ হাজার ৩৪০ টাকা কমে যায়। এরপরও ইউনাইটেড হাসপাতাল কোনো কর পরিশোধ করেনি। করের পরিমাণ না কমালে ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সিটি করপোরেশন পাওনা হতো ২১ কোটি ৪৪ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৩ টাকা।
এজাহারে বলা হয়, সাবেক কমিশনার রহিমা বেগম এবং ইউনাইটেড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রহমান খান পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ওই টাকা পরিশোধ না করে দণ্ডনীয় অপরাধ করেছেন।
সাবেক কমিশনার ও ইউনাইটেড হাসপাতালের এমডি পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তারা অন্যায়ভাবে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু থেকে ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত হোল্ডিং ট্যাক্স তথা সরকারি রাজস্ব বাবদ মোট ২১ কোটি ৪৪ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৩ টাকা পরিশোধ না করে নিজেরা অন্যায়ভাবে লাভবান হয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এমবি





