রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ইবরাহীম হোসেন হৃদয়কে (১৯) পাঁচদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৪ জুলাই) তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে প্রধান অভিযুক্ত হৃদয়কে হাজির করে পুলিশ। এসময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. জসিম পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গতকাল (২৩ জুলাই) মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা থেকে ইবরাহীম হোসেন হৃদয়কে গ্রেফতার করে ডিএমপির গোয়েন্দা পূর্ব বিভাগের অবৈধ মাদক উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিম। তার বাড়ি উত্তর বাড্ডার হাজিপাড়ায়।

তিনি উত্তর বাড্ডা বাজারে সবজি বিক্রি করতেন। বিভিন্ন ফুটেজ দেখে হৃদয়কে এই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। হৃদয় ছাড়াও এর আগে বাড্ডা ও উত্তর বাড্ডা এলাকা থেকে ৭ জনকে গ্রেফতার করে ডিএমপির বাড্ডা থানা পুলিশ।

এদের মধ্যে রয়েছে- শাহীন (৩১), বাচ্চু মিয়া (২৮), বাপ্পী (২১), আবুল কালাম আজাদ (৫০) ও কামাল হোসেন (৪০) চারদিনের রিমান্ডে রয়েছেন। জাফর নামে একজন দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই (শনিবার) ঢাকার উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনুকে (৪০) গণপিটুনি দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রোববার (২১ জুলাই) লক্ষ্মীপুরের রায়পুরার সোনাপুর গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাসলিমাকে দাফন করা হয়েছে।

এই ঘটনায় ওইদিন বাড্ডা থানায় ৪০০-৫০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহতের ভাগনে নাসির উদ্দিন।  

এমবি